
নিজস্ব প্রতিবেদক :
নাটোরের লালপুরে মাদকবিরোধী অভিযান ও অপরাধ দমন কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় সজিবুল হৃদয় নামের এক সাংবাদিককে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি এনটিভি অনলাইনের নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। রোববার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) রাতে এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে রাতে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিক।
অভিযুক্ত বজলুর রহমান উপজেলার বালিতিতা ইসলামপুর গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে।
এ বিষয়ে সজিবুল হৃদয় বলেন, সম্প্রতি লালপুর থানায় নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে শফিকুল ইসলাম যোগদানের পর মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেন। এরপর থেকে উপজেলাজুড়ে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান, সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি ও অপরাধ দমনে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে এসব কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন অভিযুক্ত বজলুর রহমান। তিনি আরও বলেন, রোববার দুপুরে আমাকে ফোন করে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি আমার বাড়ির ঠিকানাও জেনে নিয়েছে এবং বলেছে, আমি আর বাড়ি ফিরতে পারব না। হুমকির কলের রেকর্ড আমার কাছে সংরক্ষিত আছে।
তিনি জানান, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীরা চাচ্ছে না পুলিশের তৎপরতা ও ইতিবাচক কার্যক্রমগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশ পাক। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তা চেয়ে রাতে লালপুর থানায় জিডি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বজলুর রহমান জানান, ২২ এপ্রিল রাতে সে ও তার অপর দুই সঙ্গী আলিফ আলী ও শান্ত গোপালপুর থেকে লালপুর অভিমুখে আসার সময় শিমুলতলায় পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে তাদের মোটরসাইকেলটি থামানো হয়। এসময় পুলিশ তাদের তল্লাশি করে অবৈধ কোন কিছু না পাওয়ায় সসম্মানে তাদের ছেড়ে দেয়। অথচ তল্লাশির সেই ভিডিও ফটোকার্ড করে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের লালপুর লাইভ পেজে ভাইরাল করা হয়। বিষয়টি দৃষ্টি গোচর হলে বজলুর রহমান সাংবাদিক সজিবুল হৃদয়কে মুঠোফোনে কল করে ভিত্তিহীন সংবাদটি সরিয়ে ফেলার জন্য অনুরোধ করেন। তাদের সম্মানহানির বিষয়টি বারবার তুলে ধরা হলেও লালপুর লাইভের এডমিন হিসেবে সজিবুল হৃদয় বিভিন্ন তালবাহানা করতে থাকেন। এ সময় কথা কাটাকাটির অডিও রেকর্ড এডিট করে তিনি পুনরায় লালপুর লাইভ পেজে আপলোড করেন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
ঘটনার সময় তল্লাশি চৌকিতে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সেদিন রাতে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তল্লাশি চৌকিতে বজলুর রহমান ও তার অপর দুই সঙ্গীকে তল্লাশি করা হয়। তবে আপত্তিকর কোন কিছু না পাওয়ায় তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তল্লাশির ভিডিও দেখিয়ে তাদেরকে মাদক ব্যবসায়ী বলা ঠিক হয়নি।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। পাশাপাশি ভুক্তভোগী সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ /উপসম্পাদক /প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/২৭-০১