মঙ্গলবার | ৫ মার্চ, ২০২৪ | ২১ ফাল্গুন, ১৪৩০

বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পাননি রোকেয়া

ইমাম হাসান মুক্তি, প্রতিনিধি, নাটোর (লালপুর):
নাটোরের লালপুরের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের রোকেয়া বেগম রাকিয়া একজন ‘বীরঙ্গনা’। স্বাধীনার ৫০ বছরেও বীরঙ্গনার স্বীকৃতি মেলেনি তার।
১৯৭১ সালের ২০ জুলাই। পরিবারের সামনেই পাকসেনারা চড়াও হয় রোকেয়ার ঘরে। সম্ভ্রম হারানোর মানসিক কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছেন।
সোমবার (১৯ জুলাই ২০২১) রোকেয়া বেগম রাকিয়া ও তার পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, একাত্তরে তিনি ছিলেন ১৭ বছরের যুবতী। পিতা হায়াৎ মালিথা ও মা মরিয়ম নেছার ঘরে ছিল বড় ভাই হাবিবুর রহমান, ১৫ বছর বয়সী বোন সাকিয়া ও ছোট ভাই ১২ বছরের আজহার আলী।
৫ মে শিমুলতলা নামক স্থানে তার বড় ভাই টমটম চালক হাবিবুর রহমানকে পাক বাহিনী গুলি করে হত্যা করে। ২০ জুলাই বিকেলে রামকৃষ্ণপুর গ্রামে হত্যাকান্ড, লুটপাট ও আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এ সময় একজন পাকসেনা অস্ত্র হাতে তাদের বাড়িতে ঢুকে সবার সামনে জোর করে রাকিয়াকে তুলে নিয়ে পার্শ্ববর্তী বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে।
মেয়ের সম্ভ্রম হারানোর কষ্ট ও নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ঘটনার কয়েকদিন পর ভারতের কলিমপুর শরনার্থী শিবিরে ৫ মাস থাকার পর দেশে ফিরে আসেন।
স্বাধীনতার দেড় বছরের মাথায় নিমতলীর ছইর মোল্লার ছেলে ছোয়াহা’র সাথে রাকিয়ার বিয়ে হয়। কিন্তু রাকিয়ার ওপর নির্যাতরে কথা জানতে পেরে তালাক দেন ছোয়াহা। পূণরায় বিয়ে হয় বুধপাড়া গ্রামের আজিজ শেখের সাথে। চার সন্তান রেখে স্বামী আজিক শেখ মারা যান। রাকিয়ার জীবনে আবার নেমে আসে অন্ধকার। তাঁর নিজের বলতে কিছু নেই। বর্তমান গোপালপুর (মাধবপুর) গ্রামে গরীব সন্তানের বাড়িতে অশ্রিত হয়ে বেঁচে আছেন। ইটভাটায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
স্বাধীনার ৫০ বছরেও বীরঙ্গনার স্বীকৃতি মেলেনি রাকিয়ার।

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৩)
Developed by- .::SHUMANBD::.