নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোরের লালপুরে দেশীয় অস্ত্র ও ৮ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী। এ ঘটনায় নাটোর জেলা ছাত্রদলের সহ সভাপতিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (১২ মার্চ ২০২৫) দিবাগত রাতে উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন, রামকৃষ্ণপুর গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে নাটোর জেলা ছাত্রদলের সহ সভাপতি মেহেদী হাসান আরিফ (৩২) ও বালিতিতা ইসলামপুর গ্রামের মাজদারের ছেলে শাকিব আলী (২৪)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের শহিদুল মণ্ডলের ছেলে মো. আলম মণ্ডলের (৫০) সাথে কিছুদিন ধরে তার স্ত্রী বেলির মনোমালিন্য চলে আসছিল। বুধবার (১২ মার্চ ২০২৫) দিবাগত রাত ১১ টার দিকে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য মোহরকয়া গ্রামের আলম মণ্ডলের বাড়িতে শ্যালক শাকিবসহ কয়েকজন যান। তবে মীমাংসা না হয়ে উল্টো সেখানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ সময় বেলির চাচাতো ভাই সাকিবকে আলমের বাড়িতে আটকে রাখা হয়। ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান আরিফ ও তার সহযোগীরা আগ্নেয়াস্ত্রসহ তাদেরকে উদ্ধার করতে যান। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে মাথায় আঘাত পান। সেই সাথে তিনিও আটকা পড়েন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও ৮ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
নাটোর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. কামরুল হাসান জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি দেখেছেন। কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবগত করা হবে। তারা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আলমের আত্মীয়-স্বজন পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় অস্ত্রসহ (রিভলবার) ও গুলিসহ তাদেরকে আটক করা হয়। পরে আরিফকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করে বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।