নাটোর প্রতিনিধি :
নাটোরের লালপুরে পৃথক দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি হাঁসের খামার ও এক ভ্যান চালকের বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ ২০২৫) দুপুর ১ টার দিকে উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া (কয়লার ডহর) গ্রামের ফজের আলীর ছেলে সুজন আলীর হাঁসেরখামারে আগুন লাগে।
খামারি সুজন আলী বলেন, বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট থেকে খামারে আগুন লেগে যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নেভাতে পারলেও তার আগেই খামারের ঘর ও হাঁস পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, সকল মূলধন বিনিয়োগ করে আড়াই লাখ টাকায় ৪৩০ টি হাঁস নিয়ে শুরু করেছিলাম খামার। আর তিনদিন পরেই হাঁসগুলো বিক্রি করে ঋণ দেনা পরিশোধের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সব হারিয়ে আজ আমি নি:স্ব হয়ে গেলাম। এদিকে সোমবার (১৭ মার্চ) রাতে দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের গন্ডবিল গ্রামের ছোরাপ মন্ডলের ছেলে ভ্যান চালক মাজদুল ইসলামের (৪৮) বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
আহাজারি করে মাজদুল ইসলাম বলেন, প্রতিবেশী রমজিতের বাড়িতে দাওয়াত পেয়ে ইফতারে গিয়েছিলাম। এ সময় গরুর ঘরে দেওয়া কয়েলের আগুন থেকে পুরো বাড়িতে আগুন লেগে যায়। এতে ৩ টি বসত ঘরসহ তিনটি ছাগল ও মুরগি পুড়ে গেছে। আগুন দেখে গোয়াল ঘরে বেঁধে রাখা গরুটি দড়ি ছিঁড়ে পালিয়ে গেলেও এখনো তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। ঘরের আসবাব ও দলিলপত্র, আইডি কার্ড, নগদ টাকা-পয়সা কোন কিছুই বের করতে পারিনি। এছাড়া আমার উপার্জনের একমাত্র ভ্যান গাড়িটি পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় কিভাবে চলবো তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
আগুন নিভাতে আসা প্রতিবেশী রনি আহমেদ (২৮) নামে একজন আহত হয়েছেন।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভ্যান চালকের জন্য দ্রুত শুকনো খাবার ও বস্ত্র পাঠানো হবে। আবেদন পেলে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর নির্মাণের জন্য টিনের ব্যবস্থা করা হবে।