রবিবার | ৬ এপ্রিল, ২০২৫ | ২৩ চৈত্র, ১৪৩১

উত্তর মেরু অভিযাত্রী শিশুদের সাথে রুশ প্রেসিডেন্টের মতবিনিময়

বিশেষ প্রতিনিধি:
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি দেশটির মুরমান্সকে অবস্থিত এটমফোটের বেইজ ভিজিটে করেছেন। এসময় তিনি নর্থ সী-রুট জেনারেল এডমিনিস্ট্রেশনের মেরিন অপারেশন্স হেড কোয়ার্টার্স এবং ফেডারেল স্টেট বাজেটারি ইন্সটিটিউশন পরিদর্শন করেন। ভিজিটের মুল উদ্দেশ্য ছিল নর্থ সী-রুটের বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা লাভ। রসাটম প্রেরীত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়েছে।

রুশ প্রেসিডেন্টের ভিজিটের সময় নর্থ সী-রুটে ৫০টি জাহাজ চলাচল করছিল, যার মধ্যে ৯টি পরমাণু চালিত আইসব্রেকার।

রসাটম জানায়, রুশ আর্কটিক অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন দেশটির অন্যতম জাতীয় কৌশল। এটির সফল বাস্তবায়নের জন্য এই রুটে জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভাবনাময় এই করিডোরটির উন্নয়নে নিয়মিতভাবে মালবাহী জাহাজ চলাচল, নতুন আইসব্রেকার তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট সকল অবকাঠামোর আধুনিকীকরণকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রসাটম দেশটির কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘নর্থ সী-রুটের উন্নয়ন’ বিষয়ক একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা দেখভাল করছে। সংস্থাটি একই সঙ্গে ২০৩৫ সাল নাগাদ নর্থ সী-রুটের উন্নয়ন বিষয়ক একটি পরিকল্পনা এবং ২০৩০ সাল নাগাদ রাশিয়ার আর্থ সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক অপর একটি পরিকল্পনা ‘বছরব্যাপী নর্থ সী-রুট’ এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

রসাটমের অন্যতম কৌশলগত লক্ষ্য হলো নর্থ সী-রুটকে একটি কার্যকরী জলপথ হিসেবে তৈরি করা যা ইউরোপ, রাশিয়া এবং এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে কার্যকরভাবে যুক্ত করবে। গত বছরের ডিসেম্বরে রুশ সরকার ‘গ্রেট’ নর্থ সী-রুট নামে আরও একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে যা রাশিয়ার সেন্ট পীটার্সবার্গ, কালিনিনগ্রাদ এবং ভ্লাডিভস্টককে যুক্ত করবে।

বিশ্বে একমাত্র রাশিয়ারই একটি পারমাণবিক আইসব্রেকার বহর রয়েছে। বর্তমানে চুকোতকা, লেনিনগ্রাদ এবং রাশিয়া নামে তিনটি পরমাণু শক্তি চালিত আইসব্রেকার নির্মানাধীন রয়েছে। রাশিয়ার বিখ্যাত ২২২২০ প্রকল্পের অধীনে স্টেলিনগ্রাদ নামে আরও একটি আইসব্রেকারের নির্মান কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভের মতে নর্থ সী-রুটে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আরও দু’টি ইউনিভার্সাল পরমাণু শক্তি চালিত আইসব্রেকারের প্রয়োজন।

ভিজিটকালে রুশ প্রেসিডেন্ট ‘আইসব্রেকার অফ নলেজ’ শীর্ষক একটি বিজ্ঞান ও শিক্ষামূলক অভিযাত্রা দলের শিশুদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। রাশিয়ার ১২জন স্কুল শিক্ষার্থী এই মতবিনিময়ে অংশগ্রহণ করেন। ২০১৯ সাল থেকে রসাটম শিশুদের জন্য এই অভিযানের আয়োজন করে আসছে যার লক্ষ্য হলো প্রাকৃতিক বিজ্ঞান এবং আধুনিক প্রযুক্তিকে জনপ্রিয় করে তোলা, শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে এবং ক্যারিয়ার গঠন।

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৩)
Developed by- .::SHUMANBD::.