সোমবার | ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ৩ ফাল্গুন, ১৪৩২

নাটোর-১ আসনে মনোনয়ন জমা দিলেন ১৩ প্রার্থী

প্রাপ্তি প্রসঙ্গ ডেস্ক :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর–বাগাতিপাড়া) আসনে প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিলের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। বিএনপির চার বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ১৩ জন প্রার্থী এই আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থীরা নিজ নিজ মনোনয়ন ফরম দাখিল করেন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ জুলহাস হোসেন সৌরভ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সকল প্রার্থীকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা এ বিষয়ে সহযোগিতা করার অঙ্গীকার করেছেন।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সর্বপ্রথম খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী শিক্ষাবিদ ড. আজাবুল হক মনোনয়ন জমা দেন। পরে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল তাঁর মনোনয়ন ফরম দাখিল করেন।
এরপর বিএনপির বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাইফুল ইসলাম টিপু, নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন এবং জাতীয়তাবাদী মোটরচালক দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. বাবু হোসেন মনোনয়ন জমা দেন।
মনোনয়ন দাখিল শেষে ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, তিনি কেবল লালপুর ও বাগাতিপাড়ার উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। বরং দেশের সার্বিক জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। পরিবারভুক্ত একাধিক প্রার্থিতার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সেই ধারাবাহিক ত্যাগ ও কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবেই দল তাকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে। তিনি জানান, দল ও সাধারণ মানুষের প্রতি আস্থা রেখেই ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন এবং নাটোর-১ আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে পুতুলের বড় ভাই ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন বলেন, ভাই-বোনের একাধিক প্রার্থিতা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তার মতে, এটি গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ও বৈধ প্রক্রিয়ার অংশ। তিনি দাবি করেন, লালপুর-বাগাতিপাড়ার মানুষের প্রত্যাশা, চাওয়া-পাওয়া ও স্থানীয় গণদাবির প্রতিফলন হিসেবেই তিনি নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলে জনগণ তাকে বিজয়ী করবে—এমন আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক এড. তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় লালপুর-বাগাতিপাড়ার মানুষের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। জন্মসূত্রেও তিনি এই এলাকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত বলে উল্লেখ করেন। তার বিশ্বাস, যদি নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়, তবে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এ এলাকার মানুষ তাকে বিপুল সমর্থন ও রায় দিয়ে বিজয়ী করবে।
এছাড়াও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির প্রার্থী আনসার আলী দুলাল, গণসংহতি আন্দোলনের মো. সেন্টু আলী এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মেহেদী হাসান সোহাগ মনোনয়ন দাখিল করেন।
অন্যদিকে, বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্বতন্ত্র ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক। একই কার্যালয়ে জাসদ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ হিল বাকী মনোনয়ন ফরম দাখিল করেন।
এদিকে নাটোর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী এএসএম মোকাররেবুর রহমান নাসিম তাঁর মনোনয়ন পত্র জমা দেন।
এদিকে জাতীয়তাবাদী মোটরচালক দলকে ভুঁইফোড় সংগঠন উল্লেখ করে তাদের সঙ্গে বিএনপির কোন সম্পর্ক নেই জানিয়ে জেলা বিএনপির আহবায়ক মো. রহিম নেওয়াজ বলেন, জেলা বিএনপি দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে। যারা বিদ্রোহী হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে দল সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবেন।

সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ/ উপসম্পাদক/ প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/৩০/১২/২৫

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.