
প্রাপ্তি প্রসঙ্গ ডেস্ক:
নাটোর-১ (লালপুর–বাগাতিপাড়া) আসনে প্রতীক বরাদ্দের পর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সদস্য ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজনের শেষ রক্ষা হলো না। বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের বিপক্ষে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেন ডা. মোহাম্মদ ইয়াসির আরশাদ রাজন। তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের নির্দেশনায় তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে (২০ জানুয়ারি) নির্ধারিত সময় বিকেল ৫টার পর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন করেন।
এর আগেই রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে তার নাম নির্বাচন কমিশনে পাঠান। ফলে বুধবার নির্বাচন কমিশন থেকে তাকে ‘ঘোড়া’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতীক গ্রহণ না করে সেদিন সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি দলীয় প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলকে সমর্থনের ঘোষণাও দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা ও দলের বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই তিনি নির্বাচনী প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলকে সুসংহত ও ঐক্যবদ্ধ রাখতে ব্যক্তিগত অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লড়াইয়ে সবাইকে এক কাতারে থেকে কাজ করার আহ্বান জানান রাজন। তার ঘোষণার পর উপস্থিত নেতা-কর্মীরা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে সক্রিয় থাকার অঙ্গীকার করেন।
তবে এসবের পরও বুধবার রাজশাহী বিভাগের বহিষ্কৃত আট নেতার তালিকায় ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে তার মতামত জানতে তার মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে উভয় নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, নাটোর-১ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল প্রয়াত বিএনপি নেতা ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের কন্যা এবং ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজনের ছোট বোন।
দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন ও বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু গত ২৯ ডিসেম্বর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
বোনকে সমর্থন দিয়ে ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও অপর বিদ্রোহী প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু এখনো নির্বাচনী মাঠ ছাড়েননি। তিনি জানিয়েছেন, ভোটের ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তিনি মাঠে সক্রিয় থাকবেন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদসহ মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ /উপসম্পাদক/ প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/২২-০৩