
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত ও অসহায় প্রবীণদের প্রতি সম্মান ও মানবিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে উপজেলার শত বছরের ঊর্ধ্বে বয়সী ১৬ জন নারী ও পুরুষকে দিনব্যাপী বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুনজুর রহমান বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবতার জায়গা থেকে শতবর্ষী প্রবীণদের সম্মান জানাতেই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “বয়সের ভারে অনেক প্রবীণ হাসপাতাল পর্যন্ত আসতে পারেন না। সে কথা বিবেচনায় এনে যারা নিজ উদ্যোগে আসতে পারেননি, তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে বাড়ি থেকে এনে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বয়স যতই হোক, আমরা তাদের পাশে আছি। আমরাও একদিন বৃদ্ধ হব—এই উপলব্ধি থেকেই এমন উদ্যোগ।”
এই কর্মসূচির আওতায় প্রবীণদের বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ, ফলের একটি ঝুড়ি এবং আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের অসহায় প্রবীণদের আশ্বস্ত করতে চিকিৎসা পেশার মানবিক মহত্ব তুলে ধরাই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এমন সেবা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিলমাড়িয়া গ্রামের ১৩০ বছর বয়সী বিরাজ সরদার। তিনি বলেন, “হাসপাতালের ডাক্তাররা নিজেরাই বাসা থেকে আমাদের নিয়ে এসে চিকিৎসা করালেন। আমরা খুবই খুশি। এমন উদ্যোগ যদি সব জায়গায় নেওয়া হতো, তাহলে অসহায় মানুষগুলো বৃদ্ধ বয়সে ভরসা পেত।”
নাগশোষা গ্রামের ১০২ বছর বয়সী রাধা রানী বলেন, “অনেকদিন ধরে অসুস্থ, দেখার কেউ ছিল না। আজ ডাক্তাররা অ্যাম্বুলেন্সে করে এনে চিকিৎসা দিলেন। তাদের জন্য মন থেকে দোয়া ও শুভকামনা।”
বাদকয়া গ্রামের আবুল কাশেম বলেন, “এই বয়সে চিকিৎসা পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিন্তু হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মীরা যেভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের খোঁজ নিয়েছেন এবং বাড়ি থেকে এনে চিকিৎসা দিয়েছেন, তা কখনো ভুলবো না।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মনজুর রহমান আরও জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও বিভিন্ন সময় অব্যাহত থাকবে।
হাসপাতালের এই ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে স্থানীয়রা বলছেন, প্রবীণদের প্রতি এমন সম্মান ও সহমর্মিতা সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে এবং অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অনুপ্রাণিত করবে।
সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ /উপসম্পাদক /প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/২৮-০৩