
ইউনেস্কো ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের যৌথ উদ্যোগে ‘সুলতানার স্বপ্ন: শিক্ষার্থীসম্পৃক্ত সৃজনশীল পাঠ’ শীর্ষক দ্বিতীয় পর্যায়ের উৎসব আজ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, সৃজনশীলতা চর্চা এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইউনেস্কোর বিশেষ প্রতিনিধি ড. সুজন ভাইজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক। এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিশিষ্ট কবি ও চিন্তাবিদ সারোয়ার আলী, ভাষা ও স্বাধীনতা সংগ্রামী মতি মিয়া ফাউন্ডেশন পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান স্বাধীন, বিভিন্ন পাঠাগারের সংগঠক, পাঠক এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে বেগম রোকেয়ার কালজয়ী গ্রন্থ ‘সুলতানার স্বপ্ন’-এর ভাবনা ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, এই গ্রন্থটি কেবল একটি সাহিত্যকর্ম নয়; বরং নারী অধিকার, বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠন ও সমতার দর্শনের একটি সময়োপযোগী দলিল। বেগম রোকেয়ার চিন্তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।
উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্বে বিভিন্ন পাঠাগারের অংশগ্রহণে নাচ, গান ও আবৃত্তি পরিবেশিত হয়। শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় বেগম রোকেয়ার ভাবনা ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের সামনে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী পাঠাগারের পাঠক ও শিক্ষার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট এবং বই তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠচর্চা ও সৃজনশীল পাঠাভ্যাস বিস্তারের লক্ষ্যে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, বেগম রোকেয়ার রচিত ঐতিহাসিক গ্রন্থ ‘সুলতানার স্বপ্ন’ ইউনেস্কোর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, যা বাংলা সাহিত্য ও নারীমুক্তি আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গর্বের সংযোজন।
সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ/ উপসম্পাদক/ প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/০২-০২