
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিশ্বের ১৮৪টি দেশে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বহন করে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অনন্য কীর্তি অর্জন করেছেন নাজমুন নাহার। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রচনাকারি বিশ্বের প্রথম মুসলিম নারী, জাতীয় পতাকা নিয়ে বিশ্বভ্রমণ সম্পন্ন করেছেন। এই অসাধারণ অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স তাকে সম্মানসূচক উপাধি ‘ফ্ল্যাগ লরিয়েট অব ন্যাশনাল প্রাইড’ দিয়েছে।
নাজমুন নাহারের এই ঐতিহাসিক যাত্রা সাহস, ঐক্য, শান্তি এবং পরিবেশগত দায়িত্ববোধের এক শক্তিশালী বার্তা বহন করে। সীমান্ত পেরিয়ে তার এই অভিযাত্রা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও মানবিক চেতনার উজ্জ্বল প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননাপত্র তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউএস বাংলার জেনারেল ম্যানেজার পাবলিক রিলেশনস কামরুল ইসলাম এবং হেড অব ডিজিটাল মার্কেটিং মীর তাজমুল হোসেনসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
দেশের বৃহত্তম বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, জাতীয় গর্ব, সাহসিকতা ও বৈশ্বিক দায়িত্ববোধে অনুপ্রাণিত ব্যক্তিত্বদের সম্মান জানানো তাদের অঙ্গীকারের অংশ।
নাজমুন নাহারের এই অর্জন বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
সম্মানায় ভূষিত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় নাজমুন নাহার বলেন, ‘আজ আমার অর্জনের ঝুড়িতে যুক্ত হল আরেকটি গর্বিত সম্মাননা। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে ‘ফ্ল্যাগ লরিয়েট অব ন্যাশনাল প্রাইড’ সম্মাননায় ভূষিত হওয়া আমার জন্য শুধু একটি উপাধি নয়, এটি লাল-সবুজের পতাকাকে বুকে ধারণ করে বিশ্বভ্রমণের দীর্ঘ সংগ্রামী পথচলার এক স্বীকৃতি।
অগণিত প্রতিকূলতা, সীমাহীন পরিশ্রম আর অদম্য বিশ্বাস নিয়ে দেশের পতাকা বহন করে পৃথিবীর নানা প্রান্তে পৌঁছানো-এই যাত্রা আমাকে শিখিয়েছে স্বপ্ন দেখতে সাহস লাগে, আর সেই স্বপ্ন শেষ প্রান্ত পর্যন্ত নিয়ে যেতে লাগে অসীম ধৈর্য।
প্রতিটি অর্জন আরেকটি এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। প্রতিটি স্টেপ, প্রতিটি সম্মান, প্রতিটি উৎসাহ আমাকে আরও দায়িত্বশীল করেছে, আরও বড় স্বপ্ন দেখার শক্তি দিয়েছে। সংগ্রামের পথকেই ভালোবেসে আমি পথে নেমেছিলাম, আর সেই পথই আমাকে পথ দেখিয়েছে। এই স্বীকৃতির জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই ইউএস-বাংলা পরিবারকে-আপনাদের এই সম্মান আমার যাত্রাপথে এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’