
রাশিদুল ইসলাম রাশেদ :
নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২ হাজার ১৯৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। এর মাধ্যমে তিনি বাবার হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করলেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৪৩১ ভোট।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ১২৫টি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে ফলাফল নিশ্চিত করেন নাটোরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহীন। এর আগে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জুলহাস হোসেন সৌরভও ফলাফলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত লালপুর উপজেলার ৮৪টি এবং বাগাতিপাড়া উপজেলার ৪১টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৯৫ জন, নারী ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৭৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন। শতকরা প্রায় ৭৫ শতাংশ হারে মোট ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৫৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। আসনটিতে বাতিল ভোটের সংখ্যা ৫ হাজার ২টি।
প্রাপ্ত ফলাফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তাইফুল ইসলাম টিপু (কলস) প্রতীকে পেয়েছেন ৭২ হাজার ৮৮৭ ভোট। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুল্লাহিল বাকী (হাতপাখা) ১ হাজার ২৫৩, জাতীয় পার্টির সাহেদ আলী জিন্নাহ (লাঙ্গল) ৫৪২, গণঅধিকার পরিষদের মেহেদী হাসান সোহাগ (ট্রাক) ২৯৮, গণসংহতি আন্দোলনের সেন্টু আলী (মাথাল) ২৭৯, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আনসার আলী (কোদাল) ২৭৫, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন (হরিণ) ১১৩ এবং ইয়াসির আরশাদ রাজন (ঘোড়া) ৭৮ ভোট পেয়েছেন।
ফলাফল ঘোষণার পর ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, “এই বিজয় লালপুর-বাগাতিপাড়ার সকল মানুষের। এটি ধানের শীষের বিজয়।” নির্বাচনী মাঠে অক্লান্ত পরিশ্রম করা নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, পুতুলের বাবা সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মরহুম ফজলুর রহমান পটল ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে চার বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা, ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে হয়ে যাওয়া ও ২০২৪ সালে ডামি নির্বাচনের ফলে প্রায় দেড় যুগ আসনটি বিএনপির হাতছাড়া ছিল। দীর্ঘদিন পর ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের হাত ধরে বাবার সেই আসন পুনরুদ্ধারের মধ্য দিয়ে আসনটিতে আবারও ধানের শীষের প্রত্যাবর্তন ঘটল। উল্লেখ্য, ফারজানা শারমিন পুতুল রাজশাহী বিভাগে বিএনপি’র একমাত্র নারী প্রার্থী ছিলেন। আসন্ন জাতীয় সংসদে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন নাটোর-১ (লালপুর – বাগাতিপাড়ার) আসনের আপামর জনসাধারণ।