
আনোয়ারা খাতুন শেফালী, নাটোর প্রতিনিধি :
নাটোর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম ফজলুর রহমান পটল ১৯৯৩ সালের ১৪ আগস্ট প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। এর ৩২ বছর ৬ মাস ৪ দিন পর একই দায়িত্বে এলেন তাঁর মেয়ে ফারজানা শারমীন পুতুল। তিনি (ফজলুর রহমান পটল) ১৯৯৬ সালের ১৯ মার্চ পর্যন্ত এ দায়িত্বে ছিলেন।
এবার বাবার আসন থেকেই ৫৮ নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন পুতুল। এরপর ডাক পান মন্ত্রিসভায়। মঙ্গলবার তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। বুধবার তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবস কাটিয়েছেন। পাশাপাশি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পেয়েছেন তিনি।
দায়িত্বগ্রহনের পর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রথম কর্মদিবসে আবেগঘন অভিব্যক্তিতে ফেসবুক স্ট্যাটাসে ফারজানা শারমীন পুতুল লিখেছেন, ‘আজ মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিন। দীর্ঘ ৩৩ বছর আগে যে অফিসে বসে আব্বু দেশের জন্য কাজ করেছিলেন, আজ আমি সেই এক-ই অফিসে বসে দেশের জন্য কাজ করতে যাচ্ছি। দিন-রাতে এমন কোন মুহুর্ত নেই যখন আমার বাবা আমার সাথে থাকেন না। আজ অফিসে বসে পাশের বোর্ড এর ৬ নম্বর তালিকায় আব্বুর নামের দিকে যত বার চোখ পড়েছে মনে হয়েছে আব্বু আমাকে বলছেন, “I was waiting here for you”!’
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন।
নতুন মন্ত্রীসভায় জেলার প্রথম নারী হিসেবে মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়ায় তাঁর নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ ও আনন্দ মিছিল করেন।
ফারজানা শারমিন পুতুলের বাবা বিএনপির সাবেক সমাজকল্যাণ এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মরহুম ফজলুর রহমান পটল ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এই আসন থেকে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ ১৮ বছর এই আসনে বিএনপির কোনো জনপ্রতিনিধি ছিলেন না। বাবার মৃত্যুর পর সেই হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করলেন মেয়ে পুতুল। তিনি এ আসনের প্রথম নারী ও সর্বকনিষ্ঠ নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এবারের নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগে একমাত্র বিজয়ী নারী প্রার্থী। মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ এই দুই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে অনন্য ইতিহাস গড়লেন ফারজানা শারমিন পুতুল।
নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের বেটি (মেয়ে) হিসেবে পরিচয় দিয়ে বাবার অসমাপ্ত কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। বাবার জনপ্রিয়তা তাঁর বিজয়ের পথ সুগম করেছে। তবে এই বিজয় খুব একটা সহজ ছিল না। বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর বড় ভাই ইয়াসির আরশাদ রাজন ও বিএনপির সাবেক সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। শেষ মুহুর্তে ভাই নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালেও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ও নিজ দলের বহিষ্কৃত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে প্রায় ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন পুতুল।
পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ফারজানা শারমিন পুতুল নাটোরের লালপুরের গৌরীপুরে ১৯৮৪ সালের ২ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে লন্ডনের বিপিপি ইউনিভার্সিটি ল’ স্কুল/কলেজ থেকে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ল’ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন ও ব্যারিস্টার ডিগ্রি অর্জন করেন। ‘রাইটস চেম্বারস’ ঢাকা হাইকোর্ট ও সুপ্রীম কোর্টের একজন আইনজীবী হিসেবে কর্মরত। তিনি বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক, বিএনআরসি এডিটরিয়াল বোর্ড, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য এবং নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক।