বুধবার | ১১ মার্চ, ২০২৬ | ২৬ ফাল্গুন, ১৪৩২

শিরোনাম
বড়াইগ্রাম উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ‘প্রতিটি উন্নয়ন আমি মাথায় করে আপনাদের জন্য নিয়ে আসবো’-প্রতিমন্ত্রী পুতুল বড়াইগ্রামে মহাসড়কের পাশে অজ্ঞাত ব্যক্তির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার বাঘায় সিএনজি ও ভটভটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৩ রূপপুর এনপিপি দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী লালপুরে জ্বালানি তেল ও এলপিজি গ্যাস ন্যায্যমূল্যে সরবরাহে বাজার তদারকি জোরদার বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের রাজশাহী বিভাগীয় কমিটি গঠন, সভাপতি ইমাম হাসান, সাধারণ সম্পাদক হাফিজ বগুড়ায় সাংবাদিক আব্দুল হালিম স্মরণে স্মরণসভা ও ইফতার সাংবাদিক আব্দুল হালিম মন্ডল স্মরণে বগুড়ায় স্মরণসভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল সাপ্তাহিক সময়ে ইতিহাস পত্রিকার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

‘প্রতিটি উন্নয়ন আমি মাথায় করে আপনাদের জন্য নিয়ে আসবো’-প্রতিমন্ত্রী পুতুল

নিজস্ব প্রতিবেদক :
৫৮ নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল বলেছেন, ‘নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি আমি দিয়েছিলাম, আপনাদের বেটি (মেয়ে) হিসেবে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি আমি পূরণ করবো। প্রতিটি উন্নয়ন আমি মাথায় করে আপনাদের জন্য নিয়ে আসবো।’
নাটোরের লালপুর উপজেলার ২ নম্বর ঈশ্বরদী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের মুখে হাঁসি ফোটাতে এবং সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) উপজেলার গৌরীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল এমপি।
‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ মুলপ্রতিপাদ্য নিয়ে নাটোর জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে নাটোর জেলার পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুল ওয়াহাব, রাজশাহী বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক সৈয়দ মোস্তাক হাসান, লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ, বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন প্রমুখ। এছাড়া নাটোর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
ফারজানা শারমীন পুতুল বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল ফ্যামিলি কার্ড। সরকার গঠনের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় সেই ফ্যামিলির কার্ডের উদ্বোধন হয়েছে। সেই ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে আজকে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি। নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি আমি দিয়েছিলাম, আপনাদের বেটি (মেয়ে) হিসেবে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি আমি পূরণ করবো। প্রতিটি উন্নয়ন আমি মাথায় করে আপনাদের জন্য নিয়ে আসবো।
পুতুল বলেন, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে সারাদেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডের ৩৭ হাজার ৫৬৭ টি নারীপ্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কড়াইলে ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনের পর ইতিমধ্যে তাদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে টাকা পৌঁছে গেছে। এর মাধ্যমে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলো।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এছাড়া আগামী মাসে আরও ৩৭ থেকে ৫০ হাজার পরিবারের ফ্যামিলি কার্ড সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। দল, মত, ধর্ম, বর্ণ কোন কিছু এ কার্ড প্রাপ্তিতে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। পাঁচটি ভাগে ভাগ করে এই কার্ড ক্রমান্বয়ে সকলেই পাবেন। আজ আমার গ্রামের ৩৭৮ টি উপকারভোগী পরিবারের মাঝে এই কার্ডের ভাতা পৌঁছে গেছে। পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিবারের প্রধান নারী হিসেবে প্রত্যেকেই এই কার্ড পাবার অধিকার রাখেন। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চালিত করতে এই কার্ড অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যখন আমরা একটি পরিবারের নারীকে অর্থনৈতিকভাবে ও মানসিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পারবো, তখন আমরা এগিয়ে যেতে পারবো।


সারাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে- রাজধানীর কড়াইল বস্তি, সাততলা বস্তি, ভাসানটেক বস্তি, মিরপুর সার্কেল বা শাহ আলীর ওয়ার্ড-৮, আলিমিয়ার টেক বস্তি (ওয়ার্ড-১৪) এবং বাগানবাড়ি বস্তি এলাকা। এছাড়া রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জেও এই পাইলট কর্মসূচি চালু হচ্ছে।
‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদানের ক্ষেত্রে সুবিধাভোগী বাছাই প্রক্রিয়া প্রাপ্ত তথ্য হতে ডাবল ডিপিং (একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ), সরকারি চাকরি, পেনশন ইত্যাদি কারণে ৩৭ হাজার ৫৬৭ টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য চূড়ান্ত করা হয়। প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচক মানের ভিত্তিতে সম্পন্ন করায় উপকারভোগী নির্বাচনে কোনোরূপ দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের অবকাশ নেই।
এই ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারীরা মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন। এ সময় তিনি অন্য কোনো ভাতা বা সুবিধা পাবেন না। তবে পরিবারের অন্য কেউ কোনো সুবিধা পেয়ে থাকলে তা বহাল থাকবে।
ভাতভোগী গৌরিপুর মধ্যপাড়ার কেয়া খানন চোখের কোনে আনন্দ অশ্রু নিয়ে বললেন, বাড়িতে আমার স্বামী প্রতিবন্ধী। তিন কন্যার পড়াশুনার খরচ চালাতে পারি না। ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পেয়েছি। এখন আর চিন্তা নেই। মেয়েদের পড়াশুনার খরচ চালাতে পারবো, স্বামীর চিকিৎসাও চলবে।
একই গ্রামের সোমা খাতুনের চোখ দুটোও পানিতে টলমল করছে। বাঁধভাঙা আনন্দ নিয়ে তিনি বলেন, স্বামী প্রতিবন্ধী। বাড়িতে পাঁচ সদস্য। ফ্যামিলি কার্ড পাওয়াতে ছেলে-মেয়েদের অনিশ্চিত পড়াশুনা নিয়ে এখন আর কোনো চিন্তা নেই। আল্লাহ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভালো রাখুক, পুতুল প্রতিমন্ত্রীও ভালো থাকুক।
বৃদ্ধা হাসিনা বেগম বললেন, তার ছেলে-মেয়ে ছয়টা। ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার মত আনন্দ আমার জীবনে কখনো আসেনি। আল্লাহ প্রধানমন্ত্রীকে অনেক দিন বাঁচিয়ে রাখুক। আমাদের বিটি পুতুলকে আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য কাজ করার শক্তি দিক।


প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিরর বাস্তবায়ন রোডম্যাপ সাতটি পর্যায়ে সম্পন্ন করা হয়। প্রথম পর্যায়ে কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে খানা জরিপের কাজ সম্পন্ন হয়। এরপর সম্ভাব্য উপকারভোগীদের ডাটা এন্ট্রির কাজও শেষ করা হয়। পরবর্তীতে পিএমটি স্কোরিং করে যাচাই-বাছাই শেষে সরেজমিনে লাইভ ভেরিফিকেশন পরিচালনা করা হয়।
সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসেবে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ (পিএমটি) স্কোরিং ব্যবহার করা হয়। পাইলটিং পর্যায়ে শূণ্য থেকে এক হাজার স্কোরের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়ান্টাইলের অন্তর্ভূক্ত অতি দরিদ্র, দরিদ্র এবং ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়।
গ্রামীণ এলাকায় বসতভিটাসহ আবাদি জমির পরিমাণ ০.৫০ একর বা তার কম এবং পরিবারের মাসিক আয় ও সম্পদের ভিত্তিতে এই যোগ্যতা নির্ধারিত হবে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এই কার্ডটি সরাসরি পরিবারের ‘মা’ বা ‘নারী প্রধান’ সদস্যের নামে ইস্যু করা হয়।
নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে নারীর অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতকরণ, পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা উন্নয়নের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি প্রবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কর্মসূচির মূল দর্শন ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’।

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.