সোমবার | ১৬ মার্চ, ২০২৬ | ২ চৈত্র, ১৪৩২

চুরি হওয়া নবজাতক নিঝুম উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নাটোরের লালপুরে নিঝুম নামে এক মাস বয়সী এক কন্যাশিশু চুরির পরে স্থানীয়দের সচেতনতা ও তৎপরতায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ ২০২৬) সকালে উপজেলার আড়বাব ইউনিয়নের লক্ষণবাড়ীয়া এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া শিশুটি নবীননগর গ্রামের অটোভ্যানচালক লালন উদ্দিন লালুর এক মাস বয়সী কন্যা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৫ মার্চ ২০২৬) সকালে উপজেলার আড়বাব ইউনিয়নের লক্ষণবাড়ীয়া এলাকায় হাঁটতে বের হওয়া এক নারী একজন কিশোরীকে নবজাতক শিশুসহ সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সংবাদ দেখে নবজাতক চুরির ঘটনাটি সম্পর্কে জানতেন। পরে সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ওই কিশোরী ভয়ে শিশুটিকে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় ওই নারী নবজাতকটিকে উদ্ধার করে নবীনগর গ্রামে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে শিশুটিসহ উদ্ধারকারী নারীকে থানায় নেওয়া হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নবীনগর গ্রামের আরশেদ মোল্লার মেয়ে বিজলী খাতুনের বিয়ে হয়েছে পাশের নূরুল্লাপুর গ্রামের নবীননগর গ্রামের অটোভ্যানচালক লালন উদ্দিন লালুর সঙ্গে। এক মাস আগে তাঁদের একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তাই তিনি বাবার বাড়িতে (নবীনগর গ্রামে) অবস্থান করছিলেন। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লালুর স্ত্রী বিজলি খাতুন (৩৮), তাঁর মা ফরিদা বেগম ও ভাবি রেহেনা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে শিশুটির চিকিৎসার জন্য লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। এ সময় ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী অজ্ঞাতপরিচয় ওই তরুণী তাঁদের পিছু নেন। পরে তিনি নিজেকে বিপদগ্রস্ত দাবি করে তাঁদের কাছে সহায়তা চান।
মানবিক কারণে বিজলি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ওই তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে নবীননগর গ্রামে বিজলির বাবার বাড়িতে আশ্রয় দেন। দিন শেষে আসরের নামাজের পর সন্ধ্যার দিকে ওই তরুণী বিজলির কাছ থেকে শিশুটিকে কোলে নেওয়ার কথা বলেন। এরপর কৌশলে শিশুটিকে নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান। অজ্ঞাতপরিচয় এক তরুণী মানবিকতার সুযোগ নিয়ে শিশুটিকে কোলে নেওয়ার কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যাওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অনেকক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেন, অজ্ঞাত ওই তরুণী শিশুটিকে নিয়ে পালিয়েছেন। এই ঘটনায় রাতে শিশুটির মা বিজলি খাতুন বাদী হয়ে লালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিশু উদ্ধারে এলাকার বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। রাতভর শিশু উদ্ধারে পুলিশ কাজ করে। সকালে শিশুটি উদ্ধার করা হলেও অপরাধীরা পালিয়ে যায়। উদ্ধারকারী নারীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নবজাতকসহ নাটোর আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় জড়িত মূল আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.