শুক্রবার | ২০ মার্চ, ২০২৬ | ৬ চৈত্র, ১৪৩২

ঈদে স্বল্প আয়ের মানুষের নির্ভরতার নাম ‘গোস্ত সমিতি’

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।  রমজানের ঈদ মানেই আনন্দ, খুশি আর পারিবারিক মিলন। কিন্তু ক্রমবর্ধমান বাজারদরের চাপে স্বল্প আয়ের অনেক পরিবারের জন্য ঈদের আনন্দ অনেক সময়ই সীমিত হয়ে পড়ে। সেই বাস্তবতায় নাটোরের লালপুর উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রামে গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী ও মানবিক এক সামাজিক উদ্যোগ “গোস্ত সমিতি” যা ঈদের আনন্দে নতুন আশার আলো জ্বালাচ্ছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে উপজেলার গৌরীপুর এলাকায় গোস্ত সমিতির সদস্যদের সকাল থেকে গরু জবাই ও গোস্ত কাটা ও বন্টনে ব্যাস্ত সময় পার করতে দেখা যায়। এসময় গোস্ত সমিতির অন্যান্য সদস্যদেরকেও গোস্ত কাটার কাজে সহযোগিতা করতে দেখা মিলে ।
জানা যায়, প্রতিটি গোস্ত সমিতিতে গড়ে ৪০ জন সদস্য রয়েছেন। সমিতির নিয়ম অনুযায়ী সদস্যরা দৈনিক মাত্র ১০ টাকা করে অর্থাৎ মাসে ৩০০ টাকা জমা দেন। এভাবে বছরে প্রতিটি সমিতিতে প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা সঞ্চিত হয়। রমজানের শেষ দিকে সেই সঞ্চয়ের অর্থ দিয়ে গরু ক্রয় করা হয়। পরে নির্ধারিত দিনে সদস্যদের উপস্থিতিতে গরু জবাই করে সমানভাবে গোস্ত বণ্টন করা হয়। এতে প্রত্যেক সদস্য গড়ে প্রায় ৫ কেজি করে গোস্ত পান।
গোস্ত সমিতির সদস্য হাবিবর বলেন, আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে ঈদের আগে একসাথে বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে গরু কেনা কঠিন। গোস্ত সমিতির মাধ্যমে অল্প অল্প টাকা জমিয়ে ঈদের সময় নিশ্চিন্তে গোস্ত পাই। এতে পরিবার নিয়ে ঈদের আনন্দটা পরিপূর্ণ হয়।
আরেক সদস্য জিয়াউর রহমান জানান, “ঈদের সময় বাজারে গোস্তের দাম অনেক বেড়ে যায়। সমিতির কারণে তুলনামূলক কম খরচে ভালো মানের গোস্ত পাওয়া যায়। পাশাপাশি সদস্যদের মধ্যে সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হচ্ছে।”
সমিতির উদ্যোক্তা ও স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল উদ্দিন জানান ২০১৩সালে মাত্র ৩৫জন সদস্য নিয়ে এই গোস্ত সমিতির যাত্রা শুরু হয়। এবছর সমিতিতে মোট ৮৭জন সদস্য রয়েছে। এবছর দুইটি গরু কিনতে হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে ২লাখ ৮০ হাজার টাকা। এই উদ্যোগ দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য খুবই কার্যকর। একটু পরিকল্পনা আর সম্মিলিত উদ্যোগ থাকলে ঈদের আনন্দ সবার ঘরে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
কৃষিবিদ তফিকুল আলম বলেন, গোস্ত সমিতি কেবল ঈদের খাবারের ব্যবস্থা নয়; এটি সঞ্চয়ের অভ্যাস, পরিকল্পিত জীবনযাপন এবং সামাজিক সহযোগিতার একটি বাস্তব উদাহরণ। গোস্ত সমিতির এই সম্মিলিত প্রয়াস প্রমাণ করে সঠিক পরিকল্পনা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক মূল্যবোধ থাকলে সীমিত আয়ের মানুষরাও ঈদের আনন্দ সমানভাবে ভাগ করে নিতে পারে।

সম্পাদনায় : আ.স । প্রতিবেদন: নিজস্ব প্রতিবেদক।

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.