
নাটোর প্রতিনিধি :
মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সম্মুখযুদ্ধে ময়নার শহীদদের স্মরণ করা হয়েছে।
যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে নাটোরের লালপুরে পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক ময়নার যুদ্ধ দিবস।
সোমবার (৩০মার্চ ২০২৬) দিবসটি উপলক্ষে ময়না স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে দোয়া ও শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘যাদের রক্তে গড়া আমাদের এই বাংলাদেশ, আমরা তাদের ভুলবো না’-এই অঙ্গীকারকে সামনে রেখে ময়না স্মৃতিসৌধ পরিচালনা কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এ কর্মসূচি। এতে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয় এবং তাঁদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
ওয়ালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবীর হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পু, গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোলাম।
উপস্থিত ছিলেন, শহীদ পরিবারের সন্তান সহকারী অধ্যাপক ইদ্রিস আলী মোল্লা, সহকারী অধ্যাপক এ কে এম আব্দুস সবুর, থানা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সাহান মাসুম, ওয়ালিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে উপজেলার ময়না গ্রামে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সাথে লালপুর উপজেলার মুক্তি পাগল জনতা, ইপিআর ও আনসার বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ হয়।
এ যুদ্ধে হানাদারদের ২৫ রেজিমেন্ট ধ্বংস হয়। বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আসলাম হোসেন খান ওরফে রাজা খান জনতার হাতে ধরা পড়েন। পরের দিন ৩১ মার্চ লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
সেই যুদ্ধে প্রায় অর্ধশতাধিক বাঙ্গালি শহীদ হন। দেশের জন্য আত্মত্যাগকারী সেই সকল শহীদদের স্মরণ করতে গিয়ে তারা বলেন, ময়নার যুদ্ধ দিবস শুধু একটি স্মরণীয় দিন নয়, এটি স্বাধীনতার চেতনা জাগ্রত রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে ও শহীদদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের স্মরণে মোনাজাত করা হয় এবং তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।
প্রতি বছর দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও শহিদ পরিবারের সদস্যরা নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে দিবসটি পালন করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের এই দিনে উত্তরবঙ্গে সর্বপ্রথম উপজেলার ময়না গ্রামে পাকিস্তানী হানাদারবাহিনীর সাথে লালপুর উপজেলার মুক্তি পাগল জনতা, ইপিআর ও আনসার বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ হয়েছিলো। সেদিন এই এলাকার সাধারণ মানুষকে একটি আম গাছের সঙ্গে বেঁধে গুলি করে হত্যা করা হয়, কালের সাক্ষী হয়ে সেই আম গাছটি এখনো দাঁড়িয়ে রয়েছে।
ময়না যুদ্ধে প্রায় অর্ধশত বাঙালি শহীদ ও ৩২ জন আহত হন। সেই থেকে দিবসটিকে ঐতিহাসিক ‘ময়না যুদ্ধ’ দিবস হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে পালন করে আসছে। প্রতিবছর এ উপলক্ষে ময়ন স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গনে মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ময়নার যুদ্ধ স্থান এবং শহীদ স্মৃতি সৌধটি দেখতে সারাদেশ থেকে পর্যটকরা ছুটে আসেন।