
নাটোর প্রতিনিধি:
ভালোবাসার স্মৃতি স্মরণীয় করতে ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজনে ঘোড়া আর মহিষ-গরুর গাড়িতে কনের বাড়িতে এলো বরযাত্রী।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) দুপুরে আব্দুলপুর থেকে বরযাত্রা শুরু হয়ে কণের বাড়ি একই উপজেলার আড়বাব ইউনিয়নের সালামপুর গ্রামে পৌঁছে। এ সময় রাস্তার উভয় পাশে মানুষ ব্যাতিক্রমি বরযাত্রা প্রত্যক্ষ করেন। যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চংধুপইল ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে বাঁধন । তিনি রাজশাহীর একটি নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। কনেও একই প্রতিষ্ঠানের সহপাঠী। সেই জানাশোনা থেকেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।আধুনিক যানবাহনের পরিবর্তে তাঁরা ব্যবহার করেন ১০টি গরু ও মহিষের গাড়ি এবং একটি ঘোড়ার গাড়ি। প্রতিটি গাড়ি সাজানো হয়েছে রঙিন মোড়কে। যা গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন করে জীবন্ত করে তোলে।
বরযাত্রীদের এই ব্যতিক্রমী আগমনে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। গ্রামের মানুষ ভিড় জমায় এই দৃশ্য দেখার জন্য। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই উপভোগ করেন এই অনন্য আয়োজন।
বর বাঁধন বলেন, আমরা উভয়েই গ্রামের ছেলে মেয়ে। তাই গ্রামের ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দিয়েছি। যান্ত্রিকতাকে উপেক্ষা করেছি । যদিও গরু মহিষের গাড়ি পাওয়া অনেক কঠিন ছিল।
কণে মেহেরুন্নেছা মৌ বলেন, ব্যাতিক্রমি বরযাত্রায় আমি ভিষন খুশি। আমার বাবা-মার বিয়েও গরু মহিষের গাড়িতেই হয়েছিল।
স্থানীয় লোকজন বলেন, এমন দৃশ্য তারা বহু বছর পর প্রত্যক্ষ করলেন।
বিয়ের পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল গ্রামীণ ঐতিহ্যের ছোঁয়া। সাদামাটা কিন্তু হৃদয়ছোঁয়া আয়োজন। লোকজ পরিবেশ ও পারিবারিক উষ্ণতায় ভরপুর ছিল পুরো অনুষ্ঠান। বর-কনের আত্মীয়স্বজনদের অংশগ্রহণে বিয়ের আনন্দ যেন আরও বহুগুণে বেড়ে যায়।
অনুষ্ঠান শেষে কন্যার ভাই আবেগাপ্লুত হয়ে বরযাত্রীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন তাঁদের পরিবারের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের আয়োজন শুধু একটি বিয়ে নয়। বরং গ্রামবাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি সুন্দর উদ্যোগ।