
নিজস্ব প্রতিবেদক :
নাটোরের লালপুরে একটি অনিবন্ধিত ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিক্রির অনিয়মের চিত্র ধারণ করতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছেন এক সাংবাদিক। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত প্রায় ৮টার দিকে উপজেলার কদিমচিলান এলাকার মের্সাস সাদিয়া ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতিতে সেখানে অবৈধভাবে তেল বিক্রি চলছিল।
আহত সাংবাদিক ওমর ফারুক এশিয়ান টেলিভিশনের লালপুর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, ওই রাতে সাধারণ গ্রাহকদের মোটরসাইকেলে মাত্র ১০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছিল। একই সময়ে একটি ব্যক্তিকে তিনটি ৫০ লিটারের কন্টেইনারে বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছিল। বিষয়টি অনিয়ম মনে হওয়ায় তিনি ভিডিও ধারণ শুরু করলে বাধা সৃষ্টি করা হয়।
তার অভিযোগ, কদিমচিলান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল বারী প্রথমে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান এবং ভিডিও ধারণে আপত্তি জানান। একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশের সামনেই তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল বারী বলেন, তিনি হামলার সঙ্গে জড়িত নন। কেবল ভিডিও ধারণ না করতে সাংবাদিককে অনুরোধ করেছিলেন। পরে উপস্থিত কিছু ব্যক্তি মারধর করে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে সাদিয়া ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, মেঘনা পেট্রোলিয়াম এজেন্সি থেকে তেল সরবরাহ পাওয়া গেলেও অনিবন্ধিত অবস্থায় কীভাবে তেল পাচ্ছেন ও কার্যক্রম চলছে—সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনটি সরকারি তালিকাভুক্ত নয়। এ কারণে সেখানে কোনো ট্যাগ অফিসারও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ /উপসম্পাদক /প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/০১-০১