
রাশিদুল ইসলাম রাশেদ :
নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল বলেছেন, বর্তমান সরকার যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার আছে, থাকবে এবং যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশ থেকে অন্যায় নির্মূল করে ছাড়বে ইনশাল্লাহ। ১৭ বছর ধরে দেশকে যে ধ্বংসাবশেষে পরিণত করা হয়েছে, সেখান থেকে বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে সরকার। তবে এ জন্য আপনাদের ধৈর্য ধরতে হবে। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
রোববার (৩ মে ২০২৬) নাটোরের লালপুরে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আয়োজনে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আড়বাব ইউনিয়নের সালামপুরে চন্দনা খাল এবং ওয়ালিয়া ইউনিয়নের খলিসাডাঙ্গা নদীর খননকাজের উদ্বোধন করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই খাল খনন শুধু একটি খাল খনন নয়, এটি লালপুর-বাগাতিপাড়ার উন্নয়নের নতুন যাত্রা। একটি খাল খনন মানে একটি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, পানির সংকট দূর হবে, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা যাবে এবং কৃষিতে সেচের সুবিধা বাড়বে।
মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অনলাইন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সমাজকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে না পারলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন টেকসই হবে না। যুবসমাজকে রক্ষা করতে হবে, তাহলেই উন্নয়ন অর্থবহ হবে।
অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ২৩ থেকে ২৬ বছর বয়সী কোনো ছেলে-মেয়ে হঠাৎ বিপুল অর্থের মালিক হয়ে একতলা-দোতলা বাড়ি তৈরি করলে পরিবারকে খোঁজ নিতে হবে সেই অর্থ কোথা থেকে আসছে। অবৈধ হ্যাকিং, অনলাইন জুয়া, মাদক ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে তরুণরা নিজেদের জীবন ধ্বংস করছে কিনা আপনারা খেয়াল রাখবেন। অন্যথায় অবৈধ অর্থ উপার্জনের জন্য বাবা মায়ের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, লালপুরের বিলমাড়িয়া ও দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নকে সারাদেশ ইমু হ্যাকিং ও মাদকের কারণে চেনে। এ অবস্থা পরিবর্তনে পরিবারকে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে। বাবা-মা সচেতন না হলে প্রশাসন একা সমস্যার সমাধান করতে পারবে না।
১’লা মে থেকে এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, লালপুর-বাগাতিপাড়ার মাটিতে এক বিন্দু অন্যায়ও সহ্য করা হবে না। কোন চাঁদাবাজ, দখলদার, মাদক ব্যবসায়ী ও হ্যাকিং চক্রের সদস্যর স্থান এই জনপদে হবে না।
খেলাধুলা ও শিক্ষার প্রতি তরুণদের আগ্রহী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সরকার দেশব্যাপী খেলাধুলাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পাশাপাশি মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়াশোনার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, সড়ক নির্মাণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। খুব দ্রুত এসব সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমরা উন্নয়ন বলতে শুধু রাস্তা বা অবকাঠামো বুঝি না, প্রতিটি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনকে বুঝি। বেকারদের জন্য লাখ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে, যার ৮০ শতাংশ নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।