| |

বড়াইগ্রামে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ১৪, আহত ৩০ জন

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধিঃ

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে চালকদ্বয় সহ ১৪ জন নিহত ও অন্ততঃ ৩০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২০/১০/২৬ খ্রিঃ) ভোর সাড়ে চারটায় রাজশাহী-পাবনা মহাসড়কে উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বনপাড়া হাইওয়ে থানার অফিসার -ইন -চার্জ এসআই আলমগীর হোসেন ও স্থানীয়রা জানান, পটুয়াখালি জেলার কুয়াকাটা থেকে চাঁপাই নবাবগঞ্জ গামী আরপি পরিবহন ও কুড়িগ্রাম থেকে পাবনাগামী বালু বোঝাই ট্রাক বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র এলাকায় পৌঁছালে তাদের মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এতে ঘটনাস্থলে ১২ জন ও হাসপাতালে নেওয়ার পর আরো ২ জন মারা যায়। নিহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় জানা গেছে তারা হলেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার ডুবিসাহাপুর গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০) ও আরব আলী ফকিরের ছেলে আব্দুস সামাদ (৭০), জাহান উদ্দিনের ছেলে শাহ আলাল (৪৫), রামকৃষ্ণপুর গ্রামের জহুরুলের ছেলে ও ট্রাক চালক জুয়েল রানা (৪০), খালেক চর গ্রামের শাহিন হোসেন (৩২), রাজাশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে ও বাস চালক সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার তলোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালি জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালি গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮), সুবিদখালি গ্রমের আজাহার হাওলাদারের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪৫), ঝিনাইদহের বরাতলা থানার বরানগর গ্রামের মোঃ কালাম (৪০), এর পরিচয় জানা গেছে। বাকীদের পরিচয় সানাক্তের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

আহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় জানা গেছে তারা হলেন, শরিয়তপুর জেলার আলমগীর মাতবর (৫৫), চাপাই নবাবগঞ্জ জেলার আব্দুস সালাম (৩৫), শিবগঞ্জের ওয়াহিদ আলী (২২), মাদারীপুর জেলার নাইম তালুকদার (২০), নারগিস আক্তার (৩৫), বরগুনার জেসমিন আক্তার (৩৫), নওগা জেলার নিয়ামত পুর উপজেলার চিরঞ্জিত কুমার (২৫), মান্দার উপজেলার মানিক হোসেন (৩৭), শাহাজুল ইসলাম (৩৬), লক্ষীপুর জেলার রাকিব হোসেন (২৫) । আহতদের তাৎক্ষনিক বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে বনপাড়া হাইওয়ে থানায় আনা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক, উপজেলা হাসপাতাল, নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

আব্দুস সালাম নামের এক বাসযাত্রী জানান, পটুয়াখালির কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাচ্ছিল বাসটি। তিনি মাদারিপুরের মোস্তাকপুর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়ার জন্য সোমবার রাত ৯ টার সময় বাসে উঠেন। তার আসন ছিল পিছনের দিকে। গাড়ীতে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। সকল আসন পূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল কিছু যাত্রী। গাড়ীটি অতিরিক্ত গতিতে চলতে ছিল।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার অফিসার ইন-চার্জ আলমগীর হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় কবলিত দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাস ও ট্রাককে বনপাড়া হাইওয়ে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ায় ভেতর অংশে আটকে পড়া যাত্রী উদ্ধার কাজ করতে বেগ পেতে হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। খবর পেয়ে মাননীয় জাতীয় সংসদের হুইপ এ্যাডঃ রুহুল কুদ্দস তালুকদার দুলু, নাটোর- ৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ আব্দুল আজিজ, নাটোর জেলা প্রশাসক মোছাঃ সুমনী আক্তার, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ শরিফুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দূর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতকে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মো. আশরাফুল ইসলাম


বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি, মো. আশরাফুল ইসলাম(এমবিএ মার্কেটিং) নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে ও নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে অনন্য অবদান রাখছেন মিনতি রায়। বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও নারী-স্বাস্থ্য বিষয়ে উঠান বৈঠক ও সেমিনারের মাধ্যমে দীর্ঘ্য ১২/১৩ বছর যাবত সচেতনামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন নিম্নবিত্ত পরিবারের গৃহিনী মিনতি রায়। তিনি উপজেলার বনপাড়া মৃধাপাড়া গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী অখিল রায়ের স্ত্রী। তার ১২ বছর ৭ মাস বয়সে দরিদ্র পরিবারে বিয়ে হয়। তিনি ২ সন্তানের জননী। বাল্যকালে বিয়ে হওয়ায় যেসব অসুবিধার মুখোমুখি হয়েছেন, সেগুলো নিয়ে সচেতনামূলক উঠান বৈঠক শুরু করেন। উঠান বৈঠকে বাল্য বিয়ের কুফল, বাল্য বিয়ে বন্ধের প্রয়োজনীয়তা, বাল্য বিয়ে বন্ধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সেমিনার করেন পাশের গ্রাম গুনাইহাটি, ছাতিয়ানগাছা গ্রামে। নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে অনন্য অবদান রাখছেন। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের অধিকার রক্ষায় তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তিনি বিভিন্ন সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও উঠান বৈঠক পরিচালনা করেন। এছাড়া, নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং পিরিয়ডকালীন স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে তিনি চিকিৎসকদের সহায়তায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্পের আয়োজন করে আসছেন। তাঁর এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ অঞ্চলের শত শত কিশোরী অকাল বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে এবং নিজেদের স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কে জানতে পারছে। সংক্ষেপে বলা যায়, অনিকা রায়ের এই নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা সমাজে বাল্যবিবাহের হার কমাতে এবং নারী স্বাস্থ্যের উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তিনি সকল ধর্মের মানুষের কাছে বসেন ও তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনেন। ধীরে, ধীরে তাদের একত্রিত করে তিনি “আমরা স্বাধীন মহিলা সমবায় সমিতি লিঃ ” নামে একটি সংগঠন তৈরী করলেন এবং তাদের নিয়ে সমাজ থেকে কিভাবে বাল্য বিবাহ দুর করা যায় সে বিষয়ে সেমিনার করেন। এক জন কন্যা শিশু অল্প বয়সে বিয়ে দিলে তার শরীর, মন ভেঙ্গে পড়ে, পিতা-মাতা ছেড়ে নতুন বাড়িতে গিয়ে সবার সাথে খাপখাইয়ে চলতে ব্যর্থ হয়, সংসারে নেমে আসে অশান্তি। ফলে পরিবারে সৃষ্টি হয় বিভাজন, কখনো বিচ্ছেদ। বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই গর্ভে আসে বাচ্চা। অপ্রাপ্ত বয়সে পড়তে হয় বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুকিতে। এ বিষয়গুলো তিনি তুলে ধরেন সেমিনারে। তার পরামর্শে অনেক বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়েছে। নারী রোগাক্রান্ত রোগীদের নিয়ে সেচ্ছায় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। এসব সেবা প্রদান করায় তিনি এলাকার মহিলাদের হয়ে উঠেছেন মমতাময়ী মা। তিনি সফল উদ্যোক্তা। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে দক্ষ উদ্যোক্তা হয়ে উঠবেন ও সরকারী কার্যক্রমে সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারবেন।

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.