
নিজস্ব প্রতিবেদক :
নাটোর-২ আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী, দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শুক্রবার নাটোর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ইশতেহার তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে দুলু বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়—উন্নয়নের প্রতিযোগিতাই হওয়া উচিত রাজনীতির মূল লক্ষ্য। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির আলোকে নাটোর ও নলডাঙ্গা অঞ্চলের টেকসই ও সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
ইশতেহারে দুলু জানান, উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং উন্নয়নের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান, পুনর্বাসন এবং আহত যোদ্ধাদের উন্নত চিকিৎসা ও শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে নাটোর চিনিকলের আধুনিকায়ন, ইপিজেড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি প্রার্থী। পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে সদর হাসপাতালে আইসিইউ, সিসিইউ, বার্ন ইউনিট ও ট্রমা সেন্টার চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
কৃষি খাতের উন্নয়নে আধুনিক হিমাগার নির্মাণ, নিরাপদ কৃষিপণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যবস্থা জোরদার এবং কৃষি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন দুলু। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নাটোর-নলডাঙ্গা সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ, শহরে নতুন বাইপাস সড়ক, ফ্লাইওভার ও ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে ইশতেহারে।
এছাড়া ক্রীড়া ও পর্যটন খাতকে গুরুত্ব দিয়ে নাটোর স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রাণীভবানী রাজবাড়ি, উত্তরা গণভবন ও ‘মিনি কক্সবাজার’ খ্যাত পাটুল এলাকার সংস্কার ও ইকো রিসোর্ট স্থাপনের কথা জানান তিনি।
দুলু বলেন, নাটোর ও নলডাঙ্গা পৌরসভাকে ‘গ্রীণ অ্যান্ড ক্লিন সিটি’তে রূপান্তর করা হবে। ‘নতুন নাটোর—নতুন আশা’ স্লোগানকে সামনে রেখে তিনি দশ দফাভিত্তিক উন্নয়ন ইশতেহার ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহিন ও সাইফুল ইসলাম আফতাব, নাটোর আইনজীবী সমিতির সভাপতি রুহুল আমিন তালুকদার টগর, সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক মুক্তা, পৌরসভার সাবেক মেয়র কাজী শাহ আলম, জেলা বিএনপির সদস্য নাসিম উদ্দিন নাসিম, সদর থানা বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মাস্টার, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ফরহাদ আলী দেওয়ান শাহিন এবং জেলা যুবদল সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ /উপসম্পাদক/ প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/৩১-০২