বুধবার | ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

শিরোনাম
অনন্য ইতিহাস গড়লেন ফারজানা শারমিন পুতুল প্রথম নারী প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দুই মন্ত্রণালয় পেলেন ফারজানা শারমিন পুতুল মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারি বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঈশ্বরদীতে স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্টের ৫ম বর্ষপূর্তি উদযাপন বিএনপির হারানো নাটোর-১ আসন পুনরুদ্ধার করলেন পুতুল নির্বাচনী আচরণে পারস্পরিক ভদ্রতাবোধ গণতন্ত্রের শক্তি ভোটারদের উৎসব মুখর পরিবেশ: প্রতিদ্বন্দ্বি তিন প্রার্থীর নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান প্রথম ভোট : ‘আজ বিশ্বাস হচ্ছে, আমি এদেশের একজন সম্মানিত নাগরিক।’ হারজিতে জেনজি নাকি সুইং ভোট ফ্যাক্টর? মানুষ জেনে গেছে ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে তাদের কোন পার্থক্য নেই – এ.কে. আজাদ

প্রথম নারী প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দুই মন্ত্রণালয় পেলেন ফারজানা শারমিন পুতুল

নাটোর প্রতিনিধি :
মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ এই দুই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ফারজানা শারমিন পুতুল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে নতুন মন্ত্রীসভার সদস্যরা শপথ নিয়েছেন তিনি। জেলার প্রথম নারী হিসেবে মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়ায় তাঁর নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ ও আনন্দ মিছিল করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দলের চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন পুতুল। লালপুরের বেটি (মেয়ে) রাজশাহী বিভাগে একমাত্র বিজয়ী নারী প্রার্থী হিসেবে সম্ভাব্য মন্ত্রী তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে বলে জানা যায়। নেতা-কর্মীরা বলেন, তাঁর বাবার পর লালপুরবাসি হারানো মন্ত্রীত্ব আবার ফিরে পাবে ইনশাআল্লাহ।
ফারজানা শারমিন পুতুলের বাবা বিএনপির সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মরহুম ফজলুর রহমান পটল ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এই আসন থেকে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ ১৮ বছর এই আসনে বিএনপির কোনো জনপ্রতিনিধি ছিলেন না। বাবার মৃত্যুর পর সেই হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করলেন মেয়ে পুতুল। তিনি এ আসনের প্রথম নারী ও সর্বকনিষ্ঠ নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এবারের নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগে একমাত্র বিজয়ী নারী প্রার্থী। তিনি জেলার প্রথম নারী প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দুই মন্ত্রণালয় পেলেন।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহনের পর ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল প্রতিক্রিয়ায় মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি শুকরিয়া জানিয়ে বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট চিরকৃতজ্ঞ। সেই সাথে অসংখ্য নেতা-কর্মীসহ লালপুর-বাগাতিপাড়ার মানুষ নির্বাচনী মাঠে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাঁকে বিজয়ী করেছেন। তাঁদের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এই অর্জন সেই সব মানুষের জন্য।
এ আসনের জাতীয় নির্বাচনের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৪৫ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন কাজী আব্দুল মজিদ। তিনি মার্চ ১৯৬২ থেকে মার্চ ১৯৬৯ পর্যন্ত মুসলিম লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন।
১৯৪৬ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে সংখ্যালঘু হিন্দু আসনে (লালপুর-চারঘাট) নির্বাচিত হন প্রভাস চন্দ্র লাহিড়ী। ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ইস্ট বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি বা বঙ্গীয় আইন পরিষদ এর বৃহত্তর রাজশাহীর (লালপুর-চারঘাট) মুসলিম আসনে মো. আতাউর রহমান কুড়েঘর প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন। একই সাথে হিন্দু আসনে সংখ্যালঘু যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে আবু হোসেন সরকারের মন্ত্রী সভায় অর্থমন্ত্রী প্রভাস চন্দ্র লাহিড়ী নির্বাচিত হন।
১৯৬২-১৯৬৯ পূর্বপাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য (মেম্বার অব প্রভিন্সিয়াল এসেম্বলী-এমপিএ) নির্বাচনে মুসলিম লীগের হয়ে নির্বাচিত হন আব্দুস সাত্তার খান চৌধুরী মধু মিয়া। একই সময়ে পাকিস্তান পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ জাতীয় পরিষদ সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন কাজি আব্দুল মজিদ।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বৃহত্তর লালপুর-চারঘাট আসনে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সৈয়দ নাজমুল হক সরকার। একই সময় প্রাদেশিক পরিষদে লালপুর-চারঘাট আসনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের মো. জিল্লুর রহমান ওরফে জুল্লুর।
১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (লালপুর-চারঘাট) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. মো. আলাউদ্দিন নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (লালপুর-বাগাতিপাড়া) বিএনপি প্রার্থী আব্দুল মান্নান ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ নিযুক্ত হন।
১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মমতাজ উদ্দিন রিকসা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির নওশের আলী বাদশা লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচিত হন।
এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে পঞ্চম, ১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ এবং ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ, ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা চার মেয়াদে বিএনপি প্রার্থী ফজলুর রহমান পটল ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির এম এ তালহা লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে এ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শহীদুল ইসলাম বকুল (নৌকা) বিজয়ী হন। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ্যাড. আবুল কালাম আজাদ (ঈগল) প্রতীকে বিজয়ী হন।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে প্রথম নারী ও সর্বকনিষ্ঠ নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়েন ফারজানা শারমিন পুতুল। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হন।
এছাড়া সপ্তম জাতীয় সংসদের মহিলা আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত সংসদ সদস্য শাহিন মনোয়ারা হক, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেফালী মমতাজ, দশম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সাবিনা আক্তার তুহিন, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের রত্না আহমেদ এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদে কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পান। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট সংসদ এ ভেঙ্গে দেওয়া হয়।
তাছাড়া ১৯৭০ সালের জাতীয় সদস নির্বাচনে পাবনা-৩ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসন থেকে নির্বাচিত প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য (এমপিএ) নির্বাচিত হন শহীদ এডভোকেট আমিন উদ্দিন। নবম জাতীয় সংসদের বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসন-৪১ থেকে নির্বাচিত হন সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া।

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.