বৃহস্পতিবার | ২৩ মে, ২০২৪ | ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১

বড়াইগ্রামে গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে পানিতে ফেলে হত্যার চেষ্টা

নাটোর প্রতিনিধি :
নাটোরের বড়াইগ্রামে সোনিয়া বেগম (২৯) নামের এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে পানিতে ফেলে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৪) রাতে ওই গৃহবধূর দেবর দুলাল হোসেন বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় মামলা করেন। রাতেই অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলা সদর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোনিয়া বেগম শ্রীরামপুর সরকারপাড়া গ্রামে ফারুখ মোল্লার স্ত্রী।
মামলার আসামিরা হলেন-উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মনির হোসেনের স্ত্রী মমেনা বেগম (৪৫), হুমায়নের স্ত্রী মেহনাজ বেগম (৪০) ও ভাষানের স্ত্রী কদরী বেগম (৪২)।
নির্যাতনে স্বীকার সোনিয়া বেগম বলেন, ‘অভিযুক্তরা আমার প্রতিবেশী। তাঁদের সঙ্গে পারিবারিকভাবে অনেক দিনের দ্বন্দ্ব আছে। শ্রীরামপুর গ্রামের রাস্তার পাশে মাচা করে সবজির চাষাবাদ করেন মমেনা বেগম। সেই রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন গাড়ি চলাচল করার সময় প্রায়ই সবজির গাছ নষ্ট হয়ে যায়। আমি সেই গাছ কেটে নষ্ট করেছি সন্দেহ করে অশ্লীল ভাষায় আমাকে গালি দেন মমেনা বেগম। আমি নিষেধ করলে গত মঙ্গলবার আমাকে মারপিট করে। তিন দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে চিকিৎসা শেষে শুক্রবার বাড়ি চলে যাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘শনিবার রাতে আমার বাড়ির টিউবওয়েলে পানি আনতে যাই। আগের ঘটনার সূত্র ধরে তারা অন্ধকারে আমার বাড়ির ভেতরে ঢুকে আমার মুখের মধ্যে ওড়না ঢুকিয়ে হাত-পা বেঁধে মারপিট করে। মারপিটের একপর্যায়ে পাশে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়। আমার মেয়ে চিৎকার দিলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।’
অভিযুক্ত মেহনাজ বেগমের স্বামী হুমায়ুন আলী বলেন, ‘আমার স্ত্রী এর সঙ্গে জড়িত নেই। অন্যায়ভাবে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।’
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আযম বলেন, নির্যাতনের ঘটনায় গৃহবধূর দেবর থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলা হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার তাঁদের আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৩)
Developed by- .::SHUMANBD::.