বৃহস্পতিবার | ২৩ মে, ২০২৪ | ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১

দুর্গম পথ পেরিয়ে ১৭৩তম দেশে ভ্রমণ

-নাজমুন নাহার:
পৃথিবীর বহু কঠিন দুর্গম পথ পেরিয়ে ১৭৩ টি দেশে ভ্রমণ করলাম আমি। ১৭৩তম দেশ হিসাবে মাদাগাস্কার ভ্রমণ হলো। এবারের অভিযাত্রায় বিশ্বের কঠিন থেকে কঠিনতম দেশ ভ্রমন হলো আমার। মঙ্গোলিয়া, সিরিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান হয়ে আফ্রিকার দেশ সী শেল ও মাদাগাস্কার ভ্রমণের মাধ্যমে সম্পন্ন হলো এই অভিযাত্রা।
লাল সবুজের পতাকা নিয়ে দুর্গম মঙ্গোলিয়া থেকে সাইবেরিয়া অঞ্চল পর্যন্ত ভ্রমণ করেছি (WPC- Work permit cloud এর পৃষ্ঠপোষকতায়)। তারপর RFC- রমাদান ফ্যামিলি কমিটমেন্ট ও SAFAR 4 PEACE এর অ্যাম্বাসেডর হয়ে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে ভ্রমণ করেছি আরো পাঁচটি দেশ। যা ছিল ইউকে বেসড টিভি চ্যানেলে, Channel S এর উদ্যোগে ২৬ টি চ্যারিটির মাধ্যমে ফিলিস্তিন সহ যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ, দুর্যোগ, বন্যা, খরা, ক্ষুধার্ত মানুষকে সহযোগিতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কাজ সহ মানবকতার কল্যাণে ক্যাম্পেইন।
এই রমাদানে লাল সবুজের পতাকা হাতে এই সফরে ১৬৯ তম দেশ হিসেবে সফর করি সিরিয়া। RFC- SAFAR 4 PEACE এর ক্যাম্পেইন লেবানন থেকে ভ্রমণ শুরু হয় সিরিয়ার দামেস্কোস পর্যন্ত। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ ছিলো এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবু সকল শঙ্কা পেছনে ফেলে সিরিয়ার পথে পথে বিভিন্ন পাহাড়- পর্বত অতিক্রম করে ঐতিহাসিক স্থান দেখতে দেখতে পৌঁছেছিলাম সিরিয়ার বিখ্যাত উমাইয়া মস্ক পর্যন্ত। পথে পথে দেখতে পেলাম এখনো যুদ্ধ বিধ্বস্ত মানুষের ক্ষত মুছে যায়নি, ডাউন-টাউন এরিয়া থেকে শুরু করে দামেস্কস শহরের বিভিন্ন স্থানে গায়ে ধুলো মাটি মাখা অসহায় শিশুদের হাহাকার দেখেছি, রাস্তায় রাস্তায় কিছু শিশুদের মাঝে কিছু সহযোগিতা দিয়েছি। সিরিয়া থেকে ফিলিস্তিনের দূরত্ব খুব বেশি নয়, তাই শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে সিরিয়ার দামেস্কস শহরে লাল সবুজের পতাকার পাশাপাশি উড়িয়ে দিলাম RFC- SAFAR 4 PEACE এর প্লেকার্ড। বিশ্ব ভ্রমণের সাথে এই ভ্যালেন্টারি সংযুক্তি আমাকে দারুন অভিজ্ঞতা দিয়েছে।
মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় নিয়ে আমি চলছি সামনের দিকে। জানিনা আমার জন্য পথে কি অপেক্ষা করছে। তারপর সিরিয়া থেকে আমি পাকিস্তানে পৌঁছালাম। পাকিস্তানের বিভিন্ন শহর ঘুরে আমি যখন পেশোয়ারে আর্মি ক্যান্টনমেন্টের আফগানিস্তান এম্বাসিতে গিয়েছি, সেখানে নানা প্রতিকূলতার মাঝে তালেবানের মুখোমুখি হয়ে আফগানিস্তানের ভিসা সংগ্রহ করতে হয়েছে। তারপর পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের দুর্গম তুরখাম বর্ডার পর্যন্ত যেতে যেতে লন্ডিকোতল সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের অসহায় মানুষকে ভিজিট করেছি- সেখানে কিছুটা সহযোগিতা করেছি। তারপর পাকিস্তানি খাইবার পাসের দুর্গম বোম্বিং পাহাড়ি অঞ্চল অতিক্রম করে তোরখাম পর্যন্ত পৌঁছেছি। চোখ মেলে আমি তাকালাম। একদিকে পাকিস্তানের পতাকা অন্যদিকে আফগানিস্তানের পতাকা উড়ছে।
বর্ডারে অসংখ্য কাবলিওয়ালাদের ভিড়ে হাটি হাটি পা পা করে আমি ইমিগ্রেশনে পৌছালাম। পাকিস্তানের ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ পুলিশ সিকিউরিটি ইমিগ্রেশন অফিসার পর্যন্ত নানা প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে প্রায় দুই ঘন্টা লাগল আমার আফগানিস্তানের তালেবান অফিসার পর্যন্ত পৌঁছাতে। আমি পরিপূর্ণ বোরকা পরিহিত। একদিকে রামাদান, অন্যদিকে মুসলিম কান্ট্রি ভিজিট করছি, তারপর তালেবানের কঠিন রুলস। আমি তাদের নিয়মের প্রতি পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে পোশাক সেভাবেই পরেছি।
আফগানিস্তানের তালেবান অফিসের আমাকে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন করলেন- সব কটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিলাম আমি। পাসপোর্টে সিল মারতে মারতে বললেন, আর ইউ মুসলিম? আমি বোরখার ভেতর থেকে উত্তর দিলাম ইয়েস। তিনি আলহামদুলিল্লাহ বলে আমার পাসপোর্টটা পাশের অফিসারের কাছে দিলেন। পাশের অফিসার সবকিছু চেক করে বললেন, তুমি একা এসেছো? আমি বললাম একাই ভ্রমণ করছি, তবে তোমাদের দেশের একজন গাইড আমাকে বর্ডারে নিতে আসবে। তালেবান অফিসের এত ভালো ব্যবহার করলেন, বললেন তুমি সাবধানে যেও। পথে অনেক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তারপর সিকিউরিটি চেকপয়েন্ট পার হয়ে আমি যখন আফগানিস্তানে পা রাখলাম তখন হঠাৎ করেই পাহাড়ী ২০ টির মত বাচ্চা ছোট্ট ছোট্ট কাবলি ড্রেস পরা আমাকে এসে ঘিরে ধরল পয়সা দেওয়ার জন্য। আমি তাল গোল না পেয়ে বোরকার ভিতর বুকের সাথে আমার পাসপোর্ট এবং টাকার ব্যাগটা চেপে ধরলাম কোন ভাবেই যেন তা হাতছাড়া না হয়। পেছনে আমার ভারী ব্যাকপ্যাক, আমাকে সিম কার্ড নিয়ে গাইডকে ফোন দিতে হবে। কিন্তু তার আর সুযোগ পাচ্ছিলাম না বাচ্চাদের ভিড়ে। হঠাৎ মনে পড়ল ১০০ পাউন্ড ভাঙ্গিয়ে আফগানিস্তানের মুদ্রা নিয়েছিলাম সিকিউরিটি চেকপোষ্টের পর। তাদেরকে সামান্য কিছু টাকা দিলে হয়তো তারা চলে যাবে। হঠাৎ পকেটে হাত দিয়ে দেখি সে মুদ্রাগুলো সব উধাও হয়ে গেছে। হয়তো বাচ্চাদের কেউ ভিড়ের মধ্যে নিয়ে নিয়েছে। এরমধ্যেই আফগানিস্তানের ইমিগ্রেশনে কথা হয়েছিল নাজমুর রহমান নামে এক ভদ্রলোকের সাথে, যিনি আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের মার্কেটিং ম্যানেজারের ভাই। তিনি পিছন থেকে দৌড়ে এসে আমাকে বললেন এরা তোমার ব্যাগসহ সবকিছু ছিনতাই করে নিয়ে নিবে এবং থানা পারলে তোমাকে আক্রমণ করবে। তুমি দ্রুত আমাদের গাড়িতে উঠো। আমি গাড়িতে উঠে দেখলাম তার বউ দুই বাচ্চা সহ এবং ড্রাইভার। আমি কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে জানালা খুলে আকাশের দিকে তাকালাম। গাড়িটি চলতে থাকলো। ক্ষুধা দারিদ্রতা মানুষকে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় কিছুটা বেসামাল করেছে, আমার মন খারাপ হয়নি। আমি নতুন একটা দেশে সব চ্যালেঞ্জের মাঝে পা ফেলেছি এটাই ছিল আমার জন্য বড় প্রাপ্তি। নাজমুর রহমান সাহেব বাচ্চাদেরকে শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তান পাড়ি জমিয়েছিলেন তালেবান যখন ক্ষমতা দখল করেছিল তখন। কারণ ক্লাস সেভেনের পরে ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানে শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গিয়েছে নারীদের জন্য। এখন তিনি ছুটিতে আফগানিস্তানের জালালাবাদের বাড়িতে ফিরছেন। আমি গাইডকে ফোন দিয়ে বললাম জালালাবাদ আসার জন্য। চারিদিকে জয়তুন জলপাইয়ের বাগান আর ছোট ছোট পাহাড়ি পথ, কোথাও কোথাও খোলা খেতের মাঝে দোল খাচ্ছে সবুজ ফসল। আমি কিছুটা ক্লান্ত হলেও বুকের ভেতর সাহস যেন কমেনি। তার বউ বাচ্চারা আমার সাথে গল্প করতে থাকলেন আফগানিস্তানের কথা। পথে এক জায়গায় নামাজের জন্য থামলো। সন্ধ্যা তখন ঘুমিয়ে এলো, ইফতারের সময় তখন হয়ে এলো। আমরা ততক্ষণই জালালাবাদ পৌঁছে গেছি। নাজমুর রহমানের ফ্যামিলি এবং আমার গাইডের সহযোগিতায় আমি জালালাবাদে অবস্থান করি। ইফতার শেষ করে সন্ধ্যায় জালালাবাদ ভ্রমণের জন্য তাদের ফ্যামিলি আমাকে সহযোগিতা করে। এই সন্ধ্যায় জালালাবাদ কোথাও কোন নারীদের পদ চিহ্ন নেই পথে পথে। নারী বিহীন এই শহরে গাড়ি থেকে এক কদম নেমে রাস্তার ধারে একটা ছবি তোলাও ছিল যেন ভয়ংকর কোন আগমনী বার্তা। তারা আমাকে আগেই ওয়ার্নিং দিয়ে দিয়েছিল কোনভাবেই সন্ধ্যায় রাস্তায় বের হওয়া যাবে না। আফগানিস্তানের মতো দেশে কাউকে বিশ্বাস করলে যেকোনো মুহূর্তেই ঘটতে পারে মহাবিপদ এবং মৃত্যুর মতো দুর্ঘটনা। গাড়ি দিয়ে কেউ রাস্তায় বের হলেও সকল নারীকে বোরকা পরিহিত অবস্থায় মুখ বন্ধ রাখতে হবে। শুধু মাত্র দুইটা চোখ খোলা রাখা যায়।
পরের দিন সকালে আমার গাইড ও নাজমুর রহমানের ফ্যামিলি আমাকে জালালাবাদ এর আশেপাশে বেহেশুত গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামে সফর করার জন্য সহযোগিতা করে। পাহাড়ের কোলে আফগানিস্তানের গ্রামগুলো ছবির মত ছিল। কিন্তু নারীদের নিশ্বাস ফেলতে হলে যেন কোন আবদ্ধ জায়গায় ফেলতে হবে। খোলা আকাশের নিচে ঠাঁই নেই নারীদের। আমি এদেশে একজন নারী পরিব্রাজক এটাও সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কের বিষয় ছিল আমার যদি কেউ আবার কোন ক্ষতি করে কোথাও। তাই তাদের কড়া প্রহরায় আমি গ্রামের অসহায় দরিদ্র ফ্যামিলিদের ভিজিট করি এবং সেখানে RFC- SAFAR 4 PEACE বার্তা পৌঁছাই ও তাদেরকে আমি কিছু সহযোগিতা করি।
কঠিন থেকে কঠিনতম আফগানিস্তানের খাইবার পাসের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল অতিক্রম করে জালালাবাদ থেকে কাবুল রওনা হই। অস্ত্র জড়ানো অগণিত তালেবান সিকিউরিটি চেকপোস্টের মুখোমুখি হয়ে নানান প্রশ্নের জবাব দিয়ে পার হতে হয়েছে আফগানিস্তানের দুর্গম পাহাড়ি পথ।
অচেনা সেই দুর্গম পথে বোমা হামলার আতঙ্ক, শঙ্কা প্রতি মুহূর্তেই ছিল সঙ্গী। কাবুল পৌঁছানোর পর সাথে ছিল দুইজন গাইড। কাবুলের বিভিন্ন এতিমখানা ও স্কুল সফর করি তালেবানের অনুমতি পত্র নিয়ে, সেখানে ছবি তোলা ছিল সম্পূর্ণ নিষেধ।
এ ছাড়া কাবুলের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করার জন্য যেখানেই আমি গিয়েছি সেখানেই যেন অদৃশ্য ভাবে পৌঁছে গেছে তালেবানের সিকিউরিটির গাড়ি। আমাদের পিছনে পিছনে তালেবান পাহারত, তা আমি জানতাম না। আমার দুই গাইডের কঠিন প্রহরী ও বুদ্ধিতে খুব সাবধানে কয়েকদিনে কাবুল সফর শেষ করি।
তারপর আমি আফ্রিকাতে রওনা হয়েছিলাম। আফ্রিকার সামুদ্রিক দেশ সী শেল এর প্রাকৃতিক লীলাভূমিতে আমি যখন পৌঁছেছি তখন পেছনের কঠিন পথের স্মৃতিগুলো আমাকে বারবার তাড়িত করেছে। সী শেলে গ্রামের দুটো স্কুল ভিজিট করি। সেখানে যুদ্ধ নয় শান্তি চাই ও পরিবেশ রক্ষার জন্য কিছু কথা বলি। যদিও সী সেল উন্নত টুরিস্টিক দেশ। সেখানে সবুজ গাছপালা আর স্পটিক কালারের নীল সমুদ্রের পানি ছিল মনকাড়া প্রকৃতির অপরূপ লীলা।
সী শেল সফর শেষে আমি কেনিয়া হয়ে পৃথিবীর অন্যতম দরিদ্র দেশ মাদাগাস্কারে পা রাখি। কিন্তু কেনিয়া পর্যন্ত পৌঁছানোর পর পরবর্তী ফ্লাইট ক্যানসেল হয়ে যায়, সেদিন রাতে অনলাইনে কেনিয়ার ভিসার জন্য এপ্লাই করে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ভোররাতে ভিসা নিয়ে অন্যান্য যাত্রীদের সাথে কিছুটা সময় কেনিয়াতে থাকতে হয়েছে। পরের দিন দুপুরে মাথা ভাস্কারের ফ্লাইট ছিল।
তারপর ১৭৩তম দেশ হিসাবে মাদাগাস্কারে পা রাখলাম। আফ্রিকা ভূখণ্ডের উপকূলের পাশে সামুদ্রিক দেশ মাদাগাস্কারের রাজধানী আন্তানানারিভো এয়ারপোর্ট থেকে শুরু হল আমার অভিযাত্রা বিভিন্ন শহর ও গ্রামে। যেতে যেতে দেখতে পেলাম ক্ষেত আর গাছপালা আর অপরূপ প্রকৃতির মাঝে ছোট ছোট ঘর আর অসংখ্য বস্তি। শহরতলীতে পৌঁছেই আমি হোটেলে উঠলাম। আন্তানানারিভো শহরটি দার্জিলিং এর মত অনেকটা উঁচু নিচু। দূরে পাহাড় ঘিরে রেখেছে শহরটিকে। পুরনো আদলে ঘেরা শহরটির অবকাঠামো দেখতে অপূর্ব। কোথাও কোথাও দেখা গেছে ঐতিহাসিক স্থাপনার মাঝে ৫০০ বছর আগে এখানকার মানুষের জীবন কতটা কঠিন ছিল। মাদাগাস্কারের মানুষ দেখতে রেইনবোর মতো। কেউ দেখতে মালয়েশিয়ান, কেউ দেখতে চাইনিজ কিংবা জাপানিজ, কেউ দেখতে ইন্ডিয়ান কিংবা আফ্রিকান, আবার কেউ দেখতে বিভিন্ন জাতের মিশ্রণ যেন পৃথিবীর সব দেশেরই ছোঁয়া রয়েছে এখানকার মানুষের চেহারার মাঝে।
মাদাগাস্কারে বিভিন্ন বস্তিতে অসহায় মানুষকে ভিজিট করলাম। মাদাগাস্কারের মানুষের দারিদ্রতা দেখে আমার চোখে পানি এসেছে। ক্ষুধার জ্বালায় অনেক অসহায় বাচ্চাকে কাঁদতে দেখেছি। শহরের কোনায় কোনায় মানুষকে ময়লার ড্রাম থেকে খাবার কুড়িয়ে খেতে দেখেছি। এখানে এমন অসংখ্য শ্লাম এরিয়া রয়েছে যেখানে যাওয়াটা ছিল জীবনের ঝুঁকি, তারপরও আমার গাইড এবং লোকাল মানুষেকে নিয়ে কিছু অসহায় মানুষকে আমি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি এবং তাদের মাঝে খাবার বিতরণ করেছি। দেশটি প্রাকৃতিকভাবে অপূর্ব সুন্দর, বিভিন্ন অর্গানিক ফলের জন্য বিখ্যাত হলেও এখনো এখানকার দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে। এরই মধ্যে মাদাগাস্কারের
বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছিল সাইক্লোন। তারপরও আমি চালিয়ে গেছি মিশন অভিযাত্রা। বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা হাতে RFC- SAFAR 4 PEACE এর মিশন এভাবেই আমি ভ্রমণ করেছি। পথে পথে দেখেছি অসহায় মানুষের করুন চিত্র, প্রকৃতির লীলাভূমি, ইতিহাস, সংস্কৃতি আর মানুষের ভালবাসা।
অসংখ্য কৃতজ্ঞতা রইলো- Channel S Team এর প্রতি। বিশেষ কৃতজ্ঞতা WPC এর জন্য। এছাড়া কৃতজ্ঞতা রইল বৃটেনে থাকা অবস্থায় যারা আমাকে নানা ভাবে সহযোগিতা করেছে Dhaka University Uk Association এর প্রতি।
* নাজমুন নাহার: বাংলাদেশী একমাত্র বিশ্ব নারী পরীব্রাজক। ৮ এপ্রিল ২০২৪।

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৩)
Developed by- .::SHUMANBD::.