শুক্রবার | ১৯ জুলাই, ২০২৪ | ৪ শ্রাবণ, ১৪৩১

পদ্মার চরে রাসেলস ভাইপার আতঙ্ক, ৮ টি সাপ হত্যা

নাটোর প্রতিনিধি :
নাটোরের লালপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের পদ্মার পুরো চরাঞ্চল জুড়ে রাসেলস ভাইপার সাপ আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিষধর এই সাপের কামড়ের ভয়ে ৮ টি সাপ হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা ভূমি, কৃষি ও মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বৈঠকে ২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদিত লালপুরে পদ্মার চরে প্রস্তাবিত ‘নাটোর অর্থনৈতিক অঞ্চল’ লালপুর উপজেলার আরজী-বাকনাই, রসুলপুর, বন্দোবস্ত গোবিন্দপুর, বালিতিতা, লালপুর ও চরজাজিরা এই ৬টি মৌজায় অবস্থিত। উপজেলার ঈশ্বরদী, লালপুর, বিলমাড়িয়া ও দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের ১২ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তির্ণ চরাঞ্চল জুড়ে ফসল কৃষকের হাসি ফুটিয়েছে। বর্তমান বাদামসহ বিভিন্ন শাকসবজিতে পরিপূর্ণ এলাকার জমি।
লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া, বিলমাড়িয়া, লালপুর, ঈশ্বরদী ইউনিয়নের দক্ষিণ পার্শ্ব দিয়ে পদ্মা নদী প্রবাহিত। এতে জেগে উঠা চর হলো- নীমতলী, লালপুর, দিয়ার শংকরপুর, নওসারা সুলতানপুর, আরাজি বকনাই, সেকেন্দারপুর, চাকলা বিনোদপুর, রসুলপুর, মোহরকয়া, পলাশী ফতেপুর, দিয়ার শংকরপুর, নওসারা সুলতানপুর, চরজাজিরা, পাঞ্জার চর, দিয়াড় বাহাদুরপুর, মহাদিয়াড় ইত্যাদি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১ জুলাই ২০২৪) সকালে চরাঞ্চলের নলবোনা মাঠে বাদামের জমিতে একটি রাসেল ভাইপার দেখতে পান কৃষকরা। বাদাম গাছে হাত দিতেই দেখা যায় সাপটি ইঁদুর খাচ্ছিলো। এ সময় মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে ফোঁস শব্দ করে আক্রমণ করতে তেড়ে আসলে (রশিদ ফরাজি) এক কৃষক সাপটিকে মেরে ফেলেন।
এর আগে গত ২২ জুন দুপুরে উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের পদ্মার নওসাড়া চরের একটি বাদাম খেতে তিনটি বাচ্চাসহ মা রাসেলস ভাইপারকে হত্যা করা হয়। ২৩ জুন সকালে উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নওসাড়া চরে কুমড়ার জমিতে ঘাস কাটতে গিয়ে তিনটি রাসেলস ভাইপার সাপের বাচ্চা দেখতে পান উপজেলার মোহড়কায়া কয়লার ডহর গ্রামের বাসিন্দা কাজল (২২)। পরে স্থানীয় কৃষকরা মিলে সাপের বাচ্চা তিনটিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেন।
স্থানীয় কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, এক সঙ্গে চরে চারটি রাসেল ভাইপার সাপ মেরে ফেলার ছবি এবং ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাজুড়ে এখন সাপ আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই সাপ এর আগেও চরে দেখা গেছে। এখন অনেক কৃষক সাপের ভয়ে চরে বাদাম তুলতে যেতে চাইছে না।
লালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক পলাশ জানান, পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলে জমিতে সাপের উপদ্রব বেড়েছে। এতে কৃষকরা সাপের কামড়ের ভয়ে মাঠে যেতে ভয় পাচ্ছেন।
রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য রাসেলস ভাইপার আমাদের রক্ষা করতে হবে। এটি বিষাক্ত সাপ হলেও আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকা উচিত। জমিতে কাজ করার সময় ফুলহাতা শার্ট, জিন্স প্যান্ট ও বুট জুতা পরার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কে এম সাহাব উদ্দিন বলেন, পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ৮টি রাসেল ভাইপার সাপ মারা পড়েছে বলে শুনেছেন। কিন্তু লালপুর হাসপাতালে এখন পর্যন্ত রাসেলস ভাইপার সাপে কামড়ানো কোন রোগী আসেনি। হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে এন্টিভেনাম আছে, চিন্তার কোন কারণ নেই।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আখতার বলেন, পদ্মার চরাঞ্চলে রাসেলস ভাইপার সাপের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। সাপে দংশন করলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত এন্টিভেনাম রয়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৩)
Developed by- .::SHUMANBD::.