নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোরের লালপুরে ইট ভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের প্রতিবাদে ঈশ্বরদী-বানেশ্বর আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় ভাটা মালিক ও শ্রমিকরা।
বুধবার (১২ মার্চ ২০২৫) দুপুরে নাটোর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম হোসেনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত-২০১৯) এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন করায় উপজেলার
ঈশ্বরদী ইউনিয়নের
চামটিয়া গ্রামে মেসার্স এমএসকে ব্রিকস ইটভাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রোপাইটর সবুজকে দুই লাখ টাকা জরিমানা ধার্য পূর্বক আদায় করা হয়। এ সময় এস্কেভেটর দিয়ে ইটভাটাটির আংশিক ভেঙে ফেলা হয়। পরিবেশ সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
এদিকে উপজেলার ইটভাটাগুলোতে অভিযান পরিচালনার প্রতিবাদে জিআরবি ইট ভাটার মালিক
মো. রবিউল ইসলাম রবির নেতৃত্বে ইট ভাটা ভাঙ্গা বন্ধের দাবিতে লালপুর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুরে (চিনি বটতলা) ঘন্টাব্যাপী ঈশ্বরদী-বানেশ্বর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন স্থানীয় ভাটা মালিক ও শ্রমিকরা। এতে মহাসড়কটিতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ জনগণ।
এ সময় শ্রমিকরা বলেন, ‘আমরা ভাটায় কাজ করে খাই। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে ইটভাটা বন্ধ করলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।’
আন্দোলনকারী ভাটা মালিক হাফিজুল ইসলাম ও ইউসুফ আলী বলেন, হঠাৎই প্রশাসন ইটভাটাগুলোয় অভিযান চালিয়ে ভাটা গুঁড়িয়ে দিচ্ছে, জরিমানা করছে। এভাবে ভাটা ভেঙে দিলে তো সবাই পথে বসবো। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি এই ভাটা বন্ধ হয়ে গেলে এ অঞ্চলের হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে। এজন্য সকল ভাটাকে লাইসেন্সের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে আর যেন নতুন করে ইটভাটা ভাঙা না হয় সেজন্য প্রশাসনকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা প্রশাসনের অভিযান বন্ধ করে ইট ভাটা চালু রাখার দাবি জানান।
এদিকে লালপুরের ইউএনও মো. মেহেদী হাসান ইট ভাটা ভাঙ্গার অভিযান বন্ধ করার আশ্বাস দিলে লোকজন অবরোধ তুলে নেয়।
তবে পরবর্তীতে এ ধরনের অভিযান হলে ইট ভাটার মালিকরা কঠোর কর্মসূচি দিবেন বলে জানা যায়।