নাটোর প্রতিনিধি :
নাটোরে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) পরিত্যক্ত বাংলোর মাঠে পুঁতে রাখা অবস্থায় ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ১০০ বস্তা ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ মার্চ ২০২৫) বেলা একটার দিকে সেনা-পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে এসব ব্যালট উদ্ধার করে।
এসব ব্যালটের অধিকাংশই নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই নাটোর কার্যালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে এসব ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়। নাটোর জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসন ও সদর থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,
গত শুক্রবার শহরের দক্ষিণ কান্দিভিটুয়ার নাটোরের জেলা প্রশাসকের পরিত্যক্ত বাংলোসংলগ্ন তালাবঘাট থেকে কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। তালাবঘাটে আরও অস্ত্র আছে কি না, খুঁজতে শনিবার সকালে আবারও ঘাটে ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি করে পুলিশ। ঘাটের অদূরেই জেলা প্রশাসকের পরিত্যক্ত বাংলোর মাঠে সম্প্রতি খোঁড়া ভরাট গর্ত দেখতে পান উপস্থিত জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নাটোর কার্যালয়ের সদস্যরা। শনিবার দুপুরে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে শহরের কান্দিভিটুয়া এলাকায় জেলা প্রশাসকের পুরাতন ডাকবাংলো চত্বরে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ওই এলাকায় মাটির নিচে থেকে ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ১০০ বস্তা ব্যালট পেপার পাওয়া যায়। ব্যালট পেপারগুলোর কিছু ব্যবহৃত, কিছু অব্যবহৃত। তবে সংখ্যা নিরূপণ করা শেষ হয়নি।
এনডিসি রাশেদুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার ব্যালট পেপারগুলো গত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ছয় মাস পর্যন্ত এসব ব্যালট পেপার ট্রেজারিতে জমা থাকে। পরবর্তী সময়ে কোনো মামলা-মোকদ্দমা না হলে ব্যালট পেপারগুলো ধ্বংস বা অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের কারণে ট্রেজারিতে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় পুরোনো ডিসি বাংলোর পরিত্যক্ত ভবনে ব্যালট ও কিছু নির্বাচনী সরঞ্জাম রাখা হয়। কিন্তু কে বা কারা এসব ব্যালট পেপার সেই গুদাম থেকে বের করে মাটিতে পুঁতে রাখে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এসব ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো মাটির নিচে চাপা দেওয়া ছিল। এর বেশি কিছু বলা সম্ভব না বলে তিনি জানান।
নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, ‘এখানে কীভাবে এই ব্যালট পেপারগুলো এল, তা আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে একটি সাধারণ ডায়েরি করার জন্য আমার কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বলেছি। একই সঙ্গে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও জানিয়েছি।’
জেলা প্রশাসকের পুরাতন বাংলোটির অবস্থান শহরের কান্দিভিটুয়া এলাকায় নাটোর সদর হাসপাতাল ও পুরোনো থানা ভবনের মাঝখানে। এখান থেকেই গত শুক্রবার চারটি শটগানসহ ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল। এই বাংলোটিতে গত তিন যুগেও কোনো জেলা প্রশাসক থাকেননি। তাঁরা থাকেন মোহনপুর এলাকায় নতুন বাংলোতে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় নাটোরের জেলা প্রশাসক ছিলেন আবু নাসের ভূঞা।
জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (নেজারত, ডেপুটি কালেক্টরেট) মো. উমর ফারুক বলেন, ব্যালট পেপারগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। এগুলো সম্পূর্ণ গণনা করাও হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো বাজেয়াপ্ত করা ব্যালট পেপার। তবে পরে বিস্তারিত জানানো যাবে।