বৃহস্পতিবার | ৩ এপ্রিল, ২০২৫ | ২০ চৈত্র, ১৪৩১

বাংলার জমিনে সন্ত্রাসীদের ঠাঁই হবে না: আবুল কালাম আজাদ

নাটোর প্রতিনিধি :
‘জুলাই ২৪ এর পরে নাটক করেছেন অস্ত্র উদ্ধারের নামে। লালপুরে অস্ত্রের ঝনঝনানি, প্রশাসন যদি এই অস্ত্র নির্মূল করতে না পারেন আপনারা বলে দেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অস্ত্রধারীদেরকে নির্মূলের জন্য যথেষ্ট। আপনারা যারা আমার ভাইদের হত্যা করার জন্য গুলি করেছেন তারা মনে করেছেন ২৪ এর আগের বাংলাদেশ, এটা মনে করবেন না। হাজার হাজার ছাত্র জনতা রক্ত দিয়েছেন, জীবন দিয়েছেন, আপনাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ প্রতিষ্ঠার জন্য নয়। আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই বাংলার জমিনে কোন সন্ত্রাসী, গুন্ডামি চাঁদাবাজদের ঠাঁই হবে না।’
নাটোরের লালপুরে বালিতিতা রামকৃষ্ণপুর ঈদগাহে ঈদের নামাজ শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলি বর্ষণে আহতের ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১ এপ্রিল ২০২৫) বেলা ১১ টায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে লালপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামের আমির মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এসব কথা বলেন।
উপজেলার লালপুর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর চিনি বটতলা মোড়ে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বেলা ১১টায় জামায়াতে ইসলামের নেতা কর্মীরা লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট হাই স্কুল মাঠ চত্বরে সমবেত হয়ে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি লালপুর ত্রিমোহিনী চত্বর, থানা গেট হয়ে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর চিনি বটতলা মোড়ে সমবেত হয়ে সমাবেশ করে।
নাটোর জেলা কর্মপরিষদ ও জেলা সূরা সদস্য অধ্যাপক আব্দুল ওহাবের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, লালপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা, সহকারী সেক্রেটারি হাফেজ মো. আফজাল হোসেন, নাটোর জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জাহিদ হাসান প্রমুখ।
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, ঈদের পরে স্লোগান হওয়ার কথা ছিল ঈদ মোবারক। কিন্তু জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ঈদের আনন্দ ও মহিমাকে কলুষিত করেছে আওয়ামী লীগ। শুধু তাই নয়, প্রকাশ্যে অস্ত্র বের করে আমাদের ভাই সাব্বির ও সুজাতকে হত্যা করার জন্য গুলি করেছে। আপনারা চুনোপুটি ধরে আমাদেরকে বোকা বানাতে চেয়েছেন। আপনারা রাঘব বোয়ালদেরকে চিনেন না? গত ১৭ বছরে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির ধরে ধরে জেলে পুরেছেন। ফাঁসি দিয়েছেন। আর চিহ্নিত সন্ত্রাসীদেরকে আপনারা চিনতে পারছেন না! নাটক বন্ধ করেন। প্রশাসনের ভাইয়েরা নাটক বন্ধ করেন। যদি আপনারা সন্ত্রাসীদেরকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হন, তাহলে লালপুরের জনগণ কি করবে আমার জানা নেই। এর জন্য দায়ভার আপনাদেরকে নিতে হবে। লালপুরের পরিবেশ সুন্দর ও সুস্থ রাখার জন্য অনতিবিলম্বে এই সন্ত্রাসীদের গেপ্তার করতে হবে।
এ সময় লালপুর থানার ওসিকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরো বলেন, আপনি যোগাযোগ করতে চান না। ফোন দিলে ধরতে চান না। জনগণের মান ইজ্জতের প্রতি আপনার দায়িত্ব নাই? কার হয়ে কাজ করছেন? ফিরে আসুন। ২০২৪ এর পরের বাংলাদেশে কোন কুচক্রীর কুচক্র চলবে না।
তিনি আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, আমাদের ভাইদেরকে হত্যা করার জন্য যারা গুলি করেছেন, আমাদের ভাইদের বাড়ির প্রতি যারা আক্রমণ করেছেন, তারা লালপুরকে ২৪ এর আগের বাংলাদেশ মনে করবেন না। হাজার হাজার ছাত্র জনতা রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে, আপনাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ প্রতিষ্ঠা করার জন্য নয়। সুন্দরভাবে যদি লালপুরে বসবাস করতে চান, তাহলে প্রথমে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে আইনের আওতায় আসতে হবে। আপনাদের বিচার হবে। তারপরে লালপুরে বসবাস করবেন।


উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এ্যাডভোকেট মাসুদ রানা বলেন, ডক্টর ইউনুস এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন মসৃণভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আওয়ামী সন্ত্রাসী দোসররা বিভিন্ন অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা আওয়ামী লীগকে বলতে চাই- আপনার বাড়ি আপনার জন্য নিরাপদ, আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আপনার জন্য নিরাপদ। কিন্তু যদি কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, অপতৎপরতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চান, তাহলে জনগণ বসে থাকবে না। ৩২ নম্বরের অবস্থা যেমন হয়েছে, আপনাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ির অবস্থা তেমন হবে। অপতৎপরতা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালানোর আগে ৩২ নম্বরের দিকে তাকাবেন। তারপর অপতৎপরতা চালাবেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াত-শিবিরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৩)
Developed by- .::SHUMANBD::.