
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক উন্নয়নের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ইত্তেহাদ সমাজ কল্যাণ সংস্থা। শিশু সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, দারিদ্র্য বিমোচন ও মানবিক সহায়তাসহ বহুমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনটি লালপুরসহ আশপাশের চরাঞ্চলে সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
ইত্তেহাদ সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি এএসএম মোকাররেবুর রহমান নাসিম ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সালাহ্ উদ্দিনের নেতৃত্বে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে শিশু কল্যাণ, হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু পালন, মৎস্য চাষ, কৃষি উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণ, স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা উন্নয়নে কাজ করছে। পাশাপাশি বয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে নিরক্ষর ও বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে ইত্তেহাদ সমাজ কল্যাণ সংস্থা প্রতি বছর শীত মৌসুমে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ এবং ঈদ উপলক্ষে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করে থাকে। এছাড়া মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসহায়তা ও শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করে শিক্ষা বিস্তারে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে সংগঠনটি।
সম্প্রতি লালপুর উপজেলায় ইত্তেহাদ সমাজ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে পদ্মার চরাঞ্চলের অসহায় শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) লালপুর উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের পদ্মার চরে রসুলপুর আশ্রয়ণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন লালপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল খাঁ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি ও সাপ্তাহিক লালপুর বার্তার সম্পাদক আব্দুল মোতালেব রায়হান, বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থার লালপুর উপজেলা সভাপতি আব্দুর রশিদ মাস্টার, সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক আবু হাসান, দেলবার হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। কর্মসূচির আওতায় লালপুর উপজেলার মহেশপুর, দিয়াড় শংকরপুর, বিলমাড়ীয়া ও নাগশোষা গ্রামের মোট ২৫০ জন শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।
নাগশোষা গ্রামের বাসিন্দা নার্গিস বেগম বলেন,
“ইত্তেহাদ সমাজ কল্যাণ সংস্থা থেকে কয়দিন আগে কম্বল পেয়েছি। এই শীতে এটি আমাদের জন্য অনেক উপকারে এসেছে।”
দিয়াড়শংকরপুর গ্রামের সুরু বেগম জানান,
“ঈদের আগে ইত্তেহাদ থেকে সেমাই, চিনি, সাবান, সয়াবিন তেল, শ্যাম্পু সহ ঈদ সামগ্রী পেয়ে থাকি। এতে ঈদ আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করতে পারি।”
লালপুর চরের বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন বলেন,
“ইত্তেহাদ সমাজ কল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান মোকাররেবুর রহমান নাসিম দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি দেন। এমনকি বিবাহযোগ্য দরিদ্র পাত্রীর জন্যও সহযোগিতা করেন, যা সমাজে অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ।”
ইত্তেহাদ সমাজ কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সালাহ্ উদ্দিন বলেন,
“আমরা প্রতি বছর শীত মৌসুমে শীতবস্ত্র বিতরণ, রমজানে ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তাসহ নানা মানবিক কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকি। সমাজের অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
বর্তমানে ইত্তেহাদ সমাজ কল্যাণ সংস্থা লালপুর, বিলমাড়ীয়া, দুড়দুড়িয়া ও ঈশ্বরদী ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ মোট ১০টি ইউনিয়নে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব এলাকায় সংস্থার উদ্যোগে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ইত্তেহাদ সমাজ কল্যাণ সংস্থার ধারাবাহিক, পরিকল্পিত ও মানবিক কর্মকাণ্ড সমাজ উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও সংগঠনটি মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সাধারণ মানুষের।
সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ/ উপসম্পাদক/ প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/১৯-০২