শুক্রবার | ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ২৩ মাঘ, ১৪৩২

মতি মিয়া ফাউন্ডেশন পাঠাগারে এক অনন্য সাহিত্য ও মননচর্চার আয়োজন অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ভাষা ও স্বাধীনতাসংগ্রামী মতি মিয়া ফাউন্ডেশন পাঠাগারে এক অনন্য সাহিত্য ও মননচর্চার আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বইকে কেন্দ্র করে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, মুক্তচিন্তার বিকাশ এবং নতুন প্রজন্মকে জ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা, বই পাঠ ও কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সভাপতির আসন গ্রহণ করেন কবি আলী জহির খালেক-উজ-জামান। স্বাগত বক্তব্যে পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান স্বাধীন বলেন, “পাঠাগার কেবল বই রাখার স্থান নয়; এটি একটি জাতির চিন্তা ও বিবেক গঠনের কেন্দ্র। জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—জ্ঞানচর্চা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।”
তিনি পাঠাগারের নিয়মিত কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামালপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হিশাম আল মহান্নাভ বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে পাঠাভ্যাস ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পাঠাগারভিত্তিক উদ্যোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠাগারমুখী করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে কবি আলী জহির খালেক-উজ-জামান বলেন, বই মানুষের চিন্তাকে শাণিত করে এবং কবিতা মানুষের হৃদয়কে মানবিক করে তোলে। তিনি আরও বলেন, পাঠাগার ও সাহিত্যচর্চা ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ ও লালন করার একটি কার্যকর মাধ্যম।
পাঠাগারের সহ-সাধারণ সম্পাদক সাগর মুখার্জির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে পাঠাগারের সদস্যরা বিভিন্ন সাহিত্যকর্ম থেকে নির্বাচিত অংশ পাঠ করেন এবং কবিতা আবৃত্তি করেন। তরুণ ও প্রবীণ সদস্যদের অংশগ্রহণে বই পাঠ ও কবিতা আবৃত্তির এই পর্বটি উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এ ধরনের সাহিত্যভিত্তিক আয়োজন পাঠাগারকে প্রাণবন্ত করে তোলে এবং নিয়মিত পাঠচর্চায় উৎসাহ জোগায়। আলোচনা, বই পাঠ ও কবিতা আবৃত্তির সমন্বয়ে পুরো আয়োজনটি ছিল অর্থবহ ও অনুপ্রেরণাদায়ক।
শেষে পাঠাগার কর্তৃপক্ষ জানান, ভবিষ্যতেও জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষে সাহিত্য, ইতিহাস ও মুক্তচিন্তাভিত্তিক কর্মসূচি আয়োজনের মাধ্যমে পাঠাগারকে একটি সক্রিয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ /উপসম্পাদক /প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/০২-০৭

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.