মঙ্গলবার | ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১১ ফাল্গুন, ১৪৩২

শিরোনাম
নাটোরে জিয়া মঞ্চের ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন আখের অভাবে বন্ধ হলো নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে আখ মাড়াই সরকারি জমিতে থেকে অবৈধ ভবন উচ্ছেদ করল প্রশাসন নরনেসুমিতে শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সম্পূর্ণ সভাপতি মানিক, সম্পাদক পিন্টু প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কীটনাশক স্প্রে মেশিন এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হবে,মাদকাসক্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না —— নব নির্বাচিত আব্দুল আজিজ এমপি আমার সাথে দেখা করবে না সমস্যা আছে” রেজাল্টের পর শিক্ষার্থীর আত্নহনন, শিক্ষকের স্কিনশর্ট ভাইরাল একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন একুশের চেতনায় গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার-প্রধানমন্ত্রী মাহে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে লালপুরে জামায়াতের শোভাযাত্রা

আমার সাথে দেখা করবে না সমস্যা আছে” রেজাল্টের পর শিক্ষার্থীর আত্নহনন, শিক্ষকের স্কিনশর্ট ভাইরাল

নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার সেন্ট যোসেফস স্কু এন্ড কলেজের এইচএসসি
নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে বর্ণব রোজারিও (১৭) নামে এক শিক্ষার্থী
গলায় ফাঁসদিয়ে আত্নহত্যা করেছে। এঘটনার জেরে তার সহপাঠিরা  কলেজ গেটে
ভাংচুর এবং নাটোর-পাবনা অবরোধ করে। পরে বড়াইগ্রামের ইউএনও’র হস্তক্ষেপে
২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে অবরোধ তুলে নেয় সহপাঠিরা। বর্ণব কালিকাপুর
মহল্লার বিপ্লব রোজারিও’র দ্বিতীয় সন্তান এবং সেন্ট যোসেফস স্কুল এন্ড
কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।

বর্ণব মারা যাবার পরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাসতে থাকে কলেজ শাখার
আইসিটি প্রভাষক রুবেল হোসেনের হোয়াটঅ্যাপে কথোপকথনের একটি স্কিনশর্ট।
যেখানে রুবেল স্যার লিখেছেন “ যাদের বেতন বাঁকী আছে আজকের দিনের মধ্যে
আমার বিকাশ নম্বর (01689-755144) দিয়ে দিবে। টাকা পাঠালে আমাকে জানাবে।
কারন আজ সন্ধার পরে আমি নম্বর জমা দিবো”। তিনি আরও লেখেন “ আগামীকাল
তোমাদের রেজাল্ট সকাল ১০ টার সময়। তাই যাদের বেতন বাকী আছে তারা নিয়ে
আসবে। আর যারা ফেল করবে যে কোন বিষয়ে তারা আমার সাথে দেখা করবে না সমস্যা
আছে।” এই স্কিনশর্টকে ঘিরেই শতাধিক কমেন্ট দেখা যায়।

বনপাড়ায় যা যা হতে দেখেছি !!! নামে একটি পেজে সাকিব নামে একজন মডারেটর
লিখেছেন, “সেন্ট যোসেফস এর প্রয়াত শিক্ষার্থী বর্ণ রোজারিও কে দেখতে
গিয়েছিলাম।  তার শোকাহত পরিবারের আহাজারি  আমার মত এক অপরিচিত কেও কাঁদতে
বাধ্য করেছে।  সম্ভবত তার বাবা ও দিদির কান্না থামানোর মত কোনো ভাষা বা
সম্বল তার স্বজনদের নেই।  কলেজের একটা ইস্যু কে কেন্দ্র করে সে জীবন
ত্যাগ করলো এতটুকুই কি শেষ ? সেন্ট যোসেফস-এ আগামী বছর আবারো কয়েকশত বর্ণ
ভর্তি হবে। যারা শিকার হবে সেন্ট যোসেফস এর বেশ কিছু অনিয়মের।  আপনারা
ইতিমধ্যে একটি স্ক্রিন শর্ট দেখেছেন বিভিন্ন পোস্টে যেখানে দেখা যাচ্ছে
প্রাইভেট এর বেতন পরিশোধ করার সাথে রূপকের ন্যায় যুক্ত করা হয়েছে
রেজাল্টের নম্বর জমা দেওয়ার কথা। যেটা ইন ডাইরেক্ট রেজাল্ট মেকানিজমে
ইঙ্গিত বহন করে।  এছাড়া সেন্ট যোসেফস এর মাধ্যমিক এবং কলেজ সেকশন এ
কয়েকজন শিক্ষক আছেন যারা পাশ করার কাইন্ড অব সলিউশন হিসেবে স্টুডেন্ট
দেরকে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করে। কথাটা বিশ্বাস না হলে দেখবেন প্রত্যেক
ক্লাসের শিক্ষার্থীরা সেই ক্লাসের শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়ে। কলেজ এর
কিছু শিক্ষক মিলে বনপাড়া বাজারের পাশে আলাদা কোচিং সেন্টার খুলে রমরমা
ব্যবসা চালাচ্ছে।  কেনো ? কোচিং এর পড়া স্কুলে ক্লাসে পড়ানো যায় না ?
একই শিক্ষক ক্লাসে পড়ালে স্টুডেন্ট ফেল করে আর স্যারের কোচিং এ পড়লে পাশ
করে কিভাবে ? আপনার মনে হয় না যে এখানে রেজাল্ট মেকানিজম হয় ? স্কুলে
নিত্যদিন এই অনুষ্ঠান সেই অনুষ্ঠান করে অভিভাবকদের থেকে অতিরিক্ত টাকা
কাটে। কলেজে এমন অনেক সিনিয়র স্যার আছেন যারা এখনো কলেজের ভালো চান। যেমন
নাজমুল স্যার, সুমন অগাস্টিন সরেন স্যার।  সুমন স্যার এর ক্লাস এর পড়া
এখনো মাথা থেকে যায়নি। আর আজ, মিশনের অন্যান্য স্যারেরা রমরমা কোচিং এর
আড়ালে নিয়মিত রেজাল্ট মেকানিজম চালাচ্ছে।  বর্ণের জীবন দেওয়া যেনো
সামান্য আন্দোলনের মাধ্যমে শেষ না হয়।  আমরা চাই বর্ণের এই ত্যাগের
মাধ্যমে সেন্ট যোসেফস এর সকল দুর্নীতিগ্রস্থ , অদায়িত্বশীল শিক্ষকদের
পদত্যাগ, স্কুল এবং কলেজ এর শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানো সম্পূর্ণ রূপে
বাতিল , কর্মচারী ( বিশেষ করে অফিস সহকারী) দের ভালো ব্যাবহার শিখানো হয়।
আমরা আমাদের বনপাড়াতে এমন একটা সেন্ট যোসেফস চাই যেরকম ছিল শ্রদ্ধেয়
গৌরপদ মন্ডলের সেন্ট যোসেফস, যেমন ছিল ফা. লাজারুশ রোজারিও স্যারের সেন্ট
যোসেফস।

আর  কর্মচারীদের ( হাতে গোনা কয়েকজন বাদে মিশনের বাকি স্যার ম্যাডমগণ
যথেষ্ট ভদ্র ও হেল্পফুল মনোভাবের) উদ্দেশ্যে বলছি আপনারা আপনাদের অবস্থান
সম্পর্কে সচেতন হউন।  মনে রাখবেন আপনাদের পেট চলে স্টুডেন্ট দের
অভিভাবকদের টাকায়।  তাদের সাথে সদাচরণ করুন। তারা আপনার কামাই খায় না যে
আপনার রাগ তারা সহ্য করবে। পরিশেষে বর্ণ রোজারিও এর অকাল মৃত্যু তে আমরা
গ্রুপ প্যানেলের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করছি এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার
দাবি করছি “

বড়াইগ্রামের কণ্ঠসর নামে অপর একটি পেজে দেখা যায় “ আমি সেন্ট যোসেফস
স্কুল এন্ড কলেজ এর প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে বলতে চাই একজন দ্বাদশ
শ্রেণীর শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে টেষ্ট পরীক্ষার রেজাল্টের অকৃতকার্য
ফলাফল এর জন্য। বিষয়টা খুবই মর্মান্তিক এর পরিপ্রেক্ষিতে তার সহপাঠীরা
বনপাড়া বাজার অবরোধ করে এবং কলেজের গেটে ভাঙ্গচুর করে এটা ক্ষোভের
বহিঃপ্রকাশ। তবে এর দায়ভার বর্তমান শিক্ষকমণ্ডলীর এবং গভর্নিং বোর্ডের।
শিক্ষক নিয়োগ হয় তদবীর এর মাধ্যমে আর যে শিক্ষক প্রিন্সিপাল সাহেবকে যত
তেল মারেন তিনি হয়ে উঠতে পারেন বেপরোয়া। এখন উক্ত প্রতিষ্ঠানের বর্তমান
কিছু কর্মকান্ডে আসি। যে কর্মকান্ড গুলো প্রত্যক্ষভাবে আজকের ঘটণাগুলোর
জন্য দায়ী।

১.শিক্ষকরা এখন শিক্ষকতা থেকে কন্টেন্ট ক্রিয়েশন এ বেশি মনোযোগী। তারা
অবাধে ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ভিডিও ধারণ করে তাদের পেজ
গুলোতে আপলোড করেন। তারা কি কখনো পারমিশন নিয়েছেন ভিডিওতে থাকা
ছাত্রছাত্রীদের?

২.শিক্ষকদের মধ্যে তরুণ বা নতুন শিক্ষক যে কয়জন নিয়োগ পেয়েছে এরা ক্লাসের
থেকে টিউশন নিয়ে বেশি ব্যাস্ত। টিউশন না পড়লে তার সাবজেক্টে ফেল করা
অবধারিত। এ শিক্ষকদের সিন্ডিকেটের মধ্যে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক জিম্মি।

৩.টেষ্ট পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের অর্থ জামানত গ্রহন করে পরীক্ষায়
বসতে দেওয়া হয়। এই অর্থের দারায় তাদের ফেল করানো হয় অর্থ বানিজ্যের জন্য।
কারণ এ সকল শিক্ষার্থীরা বোর্ড পরীক্ষায় মানসম্মত রেজাল্ট নিয়ে পাশ করে।

৪.প্রিন্সিপাল সাহেবের কাছে ছাত্রছাত্রীর অভিভাবকরা বেতন বা অতিরিক্ত
অর্থসংক্রান্ত কোন অভিযোগ নিয়ে গেলে তিনি উক্ত অভিভাবকদের অপমানজনক বাক্য
ব্যবহার করেন এবং বেশি সময় তিনি অভিভাকদের তাচ্ছিল্য করে বলেন আপনি পারলে
নিজে একটা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন, সেখানে আপনার বাচ্চাকে পড়ান। এটা কি
প্রিন্সিপাল সাহেবের বাপ দাদার সম্পত্তি? অতীত ভুলে যাবেন না, এ
প্রতিষ্ঠান আপনি প্রতিষ্ঠা করেননি। প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই
এলাকার মুসলিম-খ্রীষ্টান-হিন্দু মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমে। তাই নিজের
বাপের সম্পত্তি ভাববেন না। বর্তমান শিক্ষার্থীদের যে কোন অহিংস পদক্ষেপের
সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছি। একই সাথে প্রিন্সিপাল সহ সিন্ডিকেটের সাথে
জড়িত শিক্ষকদের বহিষ্কার দাবী করি। শিক্ষা আর ভীক্ষা একসাথে চলে না।
শিক্ষার নামে বাণিজ্য এ দেশে চলবে না। সূত্র : সেন্ট যোসেফস এর
শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোষ্ট “

আরেকজন কমেন্টেসে লিখেন “রুবেল সাহেব নাকি শংকর ডমিনিক গোমেজের খুব
ঘনিষ্ঠ মানুষ। একজন ফাদারের কাছে একজন সাধারণ পাপী মানুষের যেমন গুরুত্ব,
ঠিক তেমনি একজন ভালো মানুষেরও সমান গুরুত্ব থাকার কথা। কিন্তু ফাদার
শংকরের কাছে রুবেল অতিমাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ। এই লোকটির মধ্যে ফাদার হওয়ার
কোনো যোগ্যতা নেই। একটি ছেলে আত্মহত্যা করেছে—তার পেছনেও এই কুলাঙ্গারের
ভূমিকা রয়েছে। আমি সম্মানিত বিশপ জেরভাস রোজারিওর কাছে আবেদন জানাচ্ছি,
সেফ আওয়ার সেন্ট যোসেফ। ফাদার শংকরকে এই পবিত্র স্থান থেকে সরানো না হলে
রুবেলের মতো কিছু তথাকথিত শিক্ষক সেন্ট জোসেফকে ধ্বংস করে ফেলবে।

জানা যায়, গতকাল রোববার সকালে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার সুনামধন্য
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেন্ট যোসেফস স্কুল এন্ড কলেজের এইএইচএসসি
পরীক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফল ঘোষনা করা হয়। ফলাফলে ৫০১ জন
শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০১ জন উত্তীর্ণ, ৩৬২ জন অপেক্ষমান এবং ৩৮ জন
অকৃতকার্য হয়। বর্ণব ৩৮ এর একজন। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজ শাখায় বরাবর
পাশের হার ৯০ শতাংশের উপরে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষায়
অপেক্ষমান তালিকায় রাখা হয়। একই সাথে তাদের নিকট থেকে নির্দিষ্ট পরিমান
জামানত নিয়ে পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের সুযোগও দেওয়া হয়। এখানেই সমস্যা।
একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন জামানত নেওয়ার সময় পাস করলে ফেরৎ দেওয়া হবে
মর্মে কথা থাকলেও অধিকাংশদেরই ফেরৎ দেওয়া হয় না। অনেকে আবার ফেরৎ নিতেও
যায় না।
সুনামধন্য এই প্রতিষ্ঠানে গত ২০১৯ সালে দায়িত্ব নেন ড. ফাদার শংকর ডমিনিক
গমেজ। বেরসকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা নীতিমালা অনুসারে স্কুল
এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে ৩ বছরের সহকারী অধ্যাপকের
অভিজ্ঞতাসহ ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা লাগে। কিন্তু তার কোন টাই নাই।
আবার ফাদার শংকর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ মোতাবেক
শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। নীতিমালার কোন তোয়াক্কা করা হয় না।
এ বিষয়ে কথা বলতে অধ্যক্ষ ড. ফাদার শংকর ডমিনিক গমেজের মোবাইল ফোনে
একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। আবার কলেজ অফিসেও তাকে পাওয়া
যায়নি।
বড়াইগ্রামের ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, শিক্ষার্থীদের লিখিত
অভিযোগ পেয়েছি।িএকটি তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হবে। তাদের দেওয়া প্রতিবেদনের
আলোকে পরবর্তী বব্যস্থা নেওয়া হবে।

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.