মঙ্গলবার | ৫ মার্চ, ২০২৪ | ২১ ফাল্গুন, ১৪৩০

আবার চালু হলো আজিমনগর স্টেশন

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশন ষষ্ঠ বারের মতো আবার চালু হয়েছে।
সোমবার (১৩ নভেম্বর ২০২৩) সকালে স্টেশনের কার্যক্রম পূনরায় চালু করা হয়। বর্তমান দুইজন স্টেশন মাস্টার, দুইজন পয়েসম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্টেশনটিতে মাস্টার দুইটি, পয়েসম্যান তিনটি, পোটার দুইটি, বুকিং সহকারী ও গেটম্যান তিনটি পদ রয়েছে।
জানা যায়, ১৮৭৯ সালে গোপালপুর রেলস্টেশন চালু হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৫ মে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল অবরুদ্ধ করে তৎকালীন প্রশাসকসহ ৪২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শতাধিক লোককে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে পাকবাহিনী। ১৯৭৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মিলের প্রশাসক শহীদ লে. আনোয়ারুল আজিমের নামানুসারে গোপালপুর রেলস্টেশনের নামকরণ হয় ‘আজিমনগর স্টেশন’।
আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা যায়, এই স্টেশন দিয়ে আন্তনগর, মেইল, লোকাল ও মালবাহি ৬০টি ট্রেন প্রতিদিন যাতায়াত করে। স্টেশনে যাত্রা বিরতি করা কপোতাক্ষ, সাগরদাঁড়ি, লালমনি, কমিউটার ও ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৫০০ টিকেট বরাদ্দ রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ২০ হাজার টাকার টিকেট বিক্রি হয়। এছাড়া ধুমকেতু, নীলসাগর, রূপসা, টুঙ্গিপাড়া, রংপুর, একতা, রকেট, বনলতা, মহানন্দা, ৫আপ, মধুমতি, সিল্কসিটি, দ্রুতযান, কুড়িগ্রাম, সিমান্ত, পঞ্চগড়, পদ্মা এক্সপ্রেস আন্তনগর, মেইল ও লোকাল প্রায় ২০টি ট্রেনে প্রতিদিন ১২০০ থেকে ১৫০০ যাত্রী যাতায়াত করে থাকেন।


জনবল সংকটের কারণে প্রথম ২০১৩ সালে বন্ধ করে ওই বছর আবার চালু করা হয়। ২০১৭ সালের মার্চের শুরুতে বন্ধ করে ১৬ মার্চ চালু হয়। ২০২০ সালে একই কারণ দেখিয়ে বন্ধ ঘোষণা করে কিছু দিনের মধ্যে পূণরায় চালু করা হয়। ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনা করে পরবর্তীতে ২২ অক্টোবর আবার চালু হয়। ২০২২ সালের ২২ আগস্ট স্টেশনের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলেও ৭ মাস পর ১১ মার্চ ২০২৩ আবার চালু হয়। নাশকতার কারণে ২০২৩ সালের ৪ জুন ষষ্ঠ বারের মতো আবারও স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনা করা হয়। শেষ পর্যন্ত সোমবার (১৩ নভেম্বর ২০২৩) সকালে স্টেশনের কার্যক্রম পূনরায় চালু করা হয়।


পয়েসম্যান মো. রবিউল ইসলাম রবিন বলেন, স্টেশনটির আধুনিকায়ন জরুরি। টয়লেটসহ অন্যান্য সুবিধা নাজুক। এ ব্যাপারে কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেন তিনি।
আজিমনগর স্টেশনের সহাকারী স্টেশন মাস্টার (এএসএম) মো. আরিফুর রহমান বলেন, তাঁর সাথে আরেকজন এএসএম আবু সালেহ, পয়েসম্যান মো. রবিউল ইসলাম রবিন ও সহকারী পয়েসম্যান নুর আলম নামে ৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। লাইনগুলো সরাসরি আব্দুলপুর জংশন এবং ঈশ্বরদী জংশন ও ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনের সাথে সংযুক্ত করায় সমস্যা দেখা দেয়। এখন যাত্রীরা স্টেশনে ওঠা-নামা ও টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৩)
Developed by- .::SHUMANBD::.