
নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের দ্রুত হস্তক্ষেপে নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজে প্রতারণার শিকার আটজন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর শিক্ষাবর্ষ রক্ষা পাচ্ছে। তাদের প্রবেশপত্র প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করে দ্রুত বিতরণের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬) থেকে পরীক্ষায় অংশ নেবেন তারা।
আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বিতরণ করা হবে। ফলে প্রথম পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলেও অবশিষ্ট সব পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন তারা।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র প্রস্তুতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষকে তা দ্রুত বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা বাকি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নিতে পারবে। প্রথম পরীক্ষা গ্রহণের জন্য সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন ইসরাত জাহান সূচি, সবুজ আহমেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল ইসলাম, তানভীর হোসেন, শিমুল আলী, সাব্বির হোসেন ও শাওন। শিক্ষা বোর্ডের এ উদ্যোগে তারা স্বস্তি প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এসব শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় সার্ভার জটিলতায় পড়েন। পরে গত ১২ মার্চ বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের উদ্দেশ্যে কলেজে গেলে গ্রন্থাগারের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে গ্রহণ করেন। তিনি ফরম পূরণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্পন্ন করেননি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচি বলেন, টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে নানা অজুহাতে তাদের অপেক্ষা করানো হয়। অবশেষে ১ জুলাই তারা জানতে পারেন, তাদের কারও ফরমই পূরণ করা হয়নি।
আরেক শিক্ষার্থী আকিবুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষা শুরু হওয়ার দিন প্রবেশপত্র না থাকায় আমরা প্রথম পরীক্ষায় বসতে পারিনি।
ইসরাত জাহান সূচির বাবা ইমামুল হক বলেন, একজন কর্মচারীর অবহেলায় আটজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। শিক্ষা বোর্ড দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
অভিযোগের বিষয়ে অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ফরম পূরণের চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু সফল হইনি। এজন্য আমি দুঃখিত। শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি কীভাবে এ দায়িত্ব নিয়েছিলেন— সে প্রশ্নের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে সাপেক্ষে অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ/ উপসম্পাদক /প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/০৩-০১