
নিজস্ব প্রতিবেদক :
নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের বাকনাই গ্রামে একটি ইটভাটার জন্য ফসলি জমির ভরাট মাটি কাটার কারণে একটি সচল বৈদ্যুতিক খুঁটি চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) দুপুরে বিলমাড়ীয়ার বন্দোবস্ত গোবিন্দপুরে একটি অভিযান পরিচালনা করতে যাবার সময় বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবীর হোসেনের নজরে আসে। পরে জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় পল্লী বিদ্যুৎকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইটভাটার জন্য খুঁটির চারপাশ থেকে গভীর করে মাটি কেটে নেয়ায় খুঁটিটির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এটি একটি পুকুরের মাঝে ছোট মাটির স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভারী বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে খুঁটিটি ধ্বসে পড়লে প্রাণহানির পাশাপাশি পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর প্রায় ৬০০ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২, লালপুর জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম মানবজমিনকে জানান, এ ঘটনায় জড়িত ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের প্রস্তুতি চলছে। ঝুঁকিতে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত সাত মাসে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০টি অভিযান চালিয়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন এবং ভূমি অপরাধ ও প্রতিকার আইনে ২৪ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময় প্রায় ১৫ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়।
সম্পাদনা :রাশিদুল ইসলাম রাশেদ/উপসম্পাদক / প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/১৯-০৩