বৃহস্পতিবার | ২৩ জুলাই, ২০২৬ | ৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩

বাজারে বসে অফিস করেন মাদ্রাসা সুপার

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি
কোনো ছুটি ছাড়াই মাসের পর মাস প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকে হাজিরা খাতায় সাক্ষর করে বেতন-ভাতা তুলছেন মাদ্রাসা সুপার। অভিযোগ উঠেছে অনুপস্থিত থাকা দিনগুলোতে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে প্রতিষ্ঠানের দপ্তরীর মাধ্যমে বাজার, বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। এমন অভিযোগ নাটোরের বড়াইগ্রামের কুমারখালী আহম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আহমাদ উল্লাহর বিরুদ্ধে।
মাদ্রাসার সুপারের এমন কর্মকান্ডে ব্যাপক সমালোচনার হচ্ছে সৃষ্টি হয়েছে। সরজমিন ঘুরে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। বছরের অধিকাংশ সময়ই তিনি মাদ্রাসায় না গিয়েও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। মাঝে মাঝে প্রতিষ্ঠানে আসলেও নানা রকম অজুহাতে বেশী সময় প্রতিষ্ঠানে থাকেন না।
এলাকাবাসী ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক জানান, ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানে ২৫০ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে। শিক্ষক কর্মচারী দিয়ে রয়েছে ২০জন। মাওলানা আহম্মদ আলী কুমারখালী আহম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সুপার হিসেবে প্রায় ৪০ বছর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কয়েক বছর আগে তিনি হজ্বে লোক নিয়ে গিয়ে মোয়াল্লেমের কাজ শুরু করেন। তারপর থেকেই নানা অজুহাতে তিনি প্রতিষ্ঠান ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছেন। উনার ইচ্ছে মতোই প্রতিষ্ঠানে যাওয়া আসা করেন। আবার একসাথে হাজিরা খাতায় একাধিক দিনের স্বাক্ষর করেন তিনি। মাদ্রাসার প্রধান হওয়ায় ভয়ে প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষক তার বিরুদ্ধে কথা বলেন না।
অফিস সহকারী মোখলেছুর রহমান বলেন, তিনি বিদ্যালয়ে না আসলেও নিয়মিত হাজিরা খাতায় সাক্ষর করেন। বেতন-ভাতাও সঠিক ভাবে পাচ্ছেন। সুপারের সুবিধামত স্থানে হাজিরা খাতা নিয়ে গিয়ে সাক্ষর করে আনা হয়।
অফিস সহায়ক (দপ্তরী) আব্দুস সালাম বলেন, কয়েকদিন আগে আমাকে ফোন করে জোনাইল বাজারে হাজিরা খাতা নিয়ে যেতে বলেন। আমি নিয়ে গিয়ে সাক্ষর করে নিয়ে আসি।
সহকারী সুপার এমরান হোসাইন বলেন, সুপার নিয়মিত মাদ্রায় আসেন না। কাউকে দ্বায়ীত্ব অর্পনও করেন না। ফলে নিয়মনিতি তোয়াক্কা না করেই যে যার মত করে প্রতিষ্ঠানে আসা যাওয়া করে।
সুপার মাওলানা আহমাদ উল্লাহ বলেন, আমি অসুস্থ্য তাই অফিসের কাজ গুলো বাড়িতে থেকেই করি। যেহেতু আমাদের প্রশাসনিক দ্বায়ীত্ব তাই কোন সমস্যা হয় না।
প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক রঞ্জু হোসেন, উনি ছুটি নেন নাই। আমি যে কয়দিন প্রতিষ্ঠানে গিয়েছি তাকে পেয়েছি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়ীত্ব) সেলিম আকতার বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.