
বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি
দির্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ ও মানুষকে ব্লাকমেইমের মাধ্যমে প্রতারনা করে আসছিলেন রাইসুল ইসলাম জুয়েল (৩৩)। তিনি এ্যাডভান্স ট্রের্ডিং নামের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও হোয়াটস্ এ্যাপের মাধ্যমে এই প্রতারনা করতে ছিলেন। তার প্রতারনা শিকার হয়েছে শত শত মানুষ। সোমবার রাতে গোপালপুর এলাকা থেকে এই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৫।
প্রতারক রাইসুল ইসলাম জুয়েল নাটোরের বড়াইগ্রামের গোপালপুর ইউনিয়নের গড়মাটি কলোনি এলাকার মামুনুর রশিদের ছেলে।
র্যাব ৫ সুত্রে জানা যায়, রাইসুল ইসলাম জুয়েল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন পেইজ একটি গ্র্যান্ড পিয়ানো বিক্রয়ের কথা বলে বিজ্ঞাপন দেয়। ঢাকা এক ব্যাক্তির সাথে আশি হাজার টাকার দিয়ে সেই গ্র্যান্ড পিয়ানো ক্রয় করার জন্য সমঝোতা হয়। কৌশলে ওই ব্যাক্তির বিকাশ ও ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার নেয় এই প্রতারক। ওই ব্যাক্তিকে রাইসুল ইসলামকে ক্রয় করা গ্র্যান্ড পিয়ানো পাঠাতে বললে তালবাহানা শুরু করে। পরে হোয়াটস অ্যাপ নাম্বানের ছবি দিয়ে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহার করে অশ্লীল ছবি তৈরী করে। সেই ওই ব্যাক্তিকে পাঠিয়ে দিয়ে ৬০ হাজার টাকা দাবী করে। সেই টাকা না দিলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে ওই ব্যাক্তি রাজধানীর ভাটারা থানার সাইবার সুরক্ষা আইন মামলা করে। পরে র্যাব-৫ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে বড়াইগ্রাম থানায় হস্তান্তর করে।
এরকম প্রতারনার শিকার মাদারীপুর জেলার সুস্ময় চক্রবর্ত্তি। তিনি ২৭ কার্টুন সাউন্ড বক্স ক্রয় করার জন্য ৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা দেয় রাইসুল ইসলাম জুয়েলকে। সেই পন্য এখনও দেয় নাই এই প্রতারক।
সুস্ময় চক্রবত্তি বলেন, মাদারীপুর থানায় সাধারন ডায়রী ও বড়াইগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ করি। কিন্ত কোন কিছুই হয়নি। আমি টাকা বা পন্য পাই নাই।
চট্রগ্রাম এলাকার রুহি ইসলাম। রাইসুল ইসলামের নিকট মসলা জাতীয় পন্য বিক্রয় করেছিলেন। কিন্তু মসলা ফেরত বা টাকা দেন নাই।
বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম বলেন, তাকে ভাটারা থানার হস্তান্ত প্রক্রিয়া চলছে।