| |

শিরোনাম
পূজামণ্ডপ সিসি ক্যামেরার আওতায় নজরদারি সার বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগে জরিমানা অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে অবহিতকরণ সভা রংতুলিতে প্রাণবন্ত হচ্ছে ৪৬ মণ্ডপে প্রতিমা বড়াইগ্রামে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা বড়াইগ্রামে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বিষয়ক প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত ‘আমাদের কন্যারা মহাকালের বুক জুড়ে তাঁদের অস্তিত্ব জানান দিয়ে যাক প্রতিদিন-প্রতি মুহুর্তে’ মহাত্মা গান্ধী গুডউইল অ্যাওয়ার্ড পেলেন সাংবাদিক ফারুক মেহেদী বড়াইগ্রামে উপজেলা চেয়ারম্যান বাবু’র শাহাদাত বার্ষিকীতে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

রংতুলিতে প্রাণবন্ত হচ্ছে ৪৬ মণ্ডপে প্রতিমা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে নাটোরের লালপুরে এখন প্রতিমা তৈরির কারিগরদের ব্যস্ত সময় কাটছে। রংতুলির আঁচড়ে মাটির প্রতিমায় ফুটে উঠছে প্রাণবন্ত রূপ। কোথাও মাটির কাজ শেষ করে প্রতিমায় লাগানো হচ্ছে রঙের শেষ আঁচড়, কোথাও দেবী দুর্গার চোখ-মুখ ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত কারিগর। আবার কোনো মণ্ডপে চলছে প্রতিমার সাজসজ্জার কাজ। খড়, কাদামাটি আর শিল্পীর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমা।
সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) নাটোরের লালপুর উপজেলা প্রশাসন আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে আইনশৃখলা রক্ষাসহ সার্বিক বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবীর হোসেন, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মুনজুর রহমান, উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা বিভূতি ভুষন প্রামানিক, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পু, গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু ও হামিদুর রহমান বাবু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ রঞ্জু, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি দীপেন্দ্রনাথ সাহা, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় কুমার কর্মকারসহ প্রতিটি মন্দির কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, সাংবাদিক ও সুধিজন।


এ বছর লালপুর উপজেলায় ৪৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিটি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ এগিয়ে নিতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন প্রতিমাশিল্পীরা। প্রতিমার গঠন, অলংকরণ ও রং করার কাজ শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূজার জন্য প্রস্তুত করা-ই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, কোথাও শিল্পীরা প্রতিমার শরীরে রং লাগাচ্ছেন, কোথাও তুলির সূক্ষ্ম আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলছেন দেবীর চোখ, মুখমণ্ডল ও অলংকারের নকশা। প্রতিমা তৈরির প্রতিটি ধাপে নিখুঁত কাজ নিশ্চিত করতে তাঁদের মধ্যে চলছে ব্যস্ততা।
স্থানীয়রা জানান, দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি এলাকার মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও মিলনমেলারও উপলক্ষ। পূজাকে ঘিরে প্রতিবছর মণ্ডপগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোয় তাঁদের মধ্যেও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শ্রী শিমুল কুমার বলেন, দুর্গাপূজা আমাদের কাছে আনন্দ ও সম্প্রীতির উৎসব। প্রতিমা তৈরির কাজ এগিয়ে যেতে দেখে ভালো লাগছে। পূজার দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই মণ্ডপগুলোতে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আমরা চাই, সবাই মিলে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারি।
শ্রীমতি নন্দিতা কুমারী বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ দেখতে অনেক ভালো লাগছে। শিল্পীরা খুব যত্ন নিয়ে প্রতিমা সাজাচ্ছেন। তাঁদের হাতের কাজেই প্রতিমাগুলো সুন্দর হয়ে উঠছে। পূজার সময় পরিবার-পরিজন নিয়ে মণ্ডপে ঘুরব, প্রার্থনা করব-এটাই আমাদের আনন্দ।
প্রতিমা তৈরির কারিগর শ্রী সাগর কুমার বলেন, এ বছরে তিনি চারটা প্রতিমা তৈরি করছেন। প্রতিটি প্রতিমা ৩০ হাজার টাকা করে তিনি খরচ নিয়ে থাকেন। প্রতিমা তৈরির কাজ কয়েকটি ধাপে করতে হয়। প্রথমে কাঠামো তৈরি, এরপর খড় বাঁধা, মাটির প্রলেপ, শুকানো, রং করা এবং সবশেষে সাজসজ্জার কাজ করতে হয়। প্রতিটি ধাপে যথেষ্ট সময় ও পরিশ্রম লাগে। এখন প্রতিমায় রং করা ও সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে আমরা ব্যস্ত সময় পার করছি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ আমাদের বংশপরম্পরার পেশা। এই কাজের সঙ্গে শুধু জীবিকা নয়, আমাদের আবেগ ও ঐতিহ্যও জড়িয়ে আছে। দর্শনার্থীরা যখন সুন্দর প্রতিমা দেখে প্রশংসা করেন, তখন আমাদের পরিশ্রম সার্থক মনে হয়।
লালপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী দীপেন্দ্রনাথ সাহা বলেন, এ বছর উপজেলায় ৪৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রতিমা তৈরির কাজসহ মণ্ডপগুলোর সার্বিক প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা চাই, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে উৎসবটি আনন্দমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হোক।


লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে পুলিশ সচেষ্ট থাকছে। পূজামণ্ডপগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে কাজ করছে।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব সুষ্ঠুভাবে উদযাপনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.