
বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি, মো. আশরাফুল ইসলাম(এমবিএ মার্কেটিং)
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে সালিশী বৈঠকে গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ এ অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা শাহিন খলিফা, আলহাজ¦ আনিসুর রহমান, মোঃ সাঈদ মন্ডল, আব্দুস সালাম (চান্দু), গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বেলাল উদ্দিন, ফজল উদ্দিন, আবুল কালাম, মোছাঃ বুলবুলি খাতুন ও আব্দুর রব সহ প্রায় অর্ধ শত বিএনপির নেতাকর্মী।
চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে তার সভাপতিত্বে ইউনিয়ন পরিষদে আস্তিকপাড়া গ্রামের লালু মন্ডলের (৪৬) কাছে বিশ হাজার টাকা চাঁদা দাবী ও তাকে মারপিট করার বিষয়ে সালিশী বৈঠক বসে। বিষয়টি শুনানীকালে প্রতীয়মান হয় যে, ৫ অক্টোবর সোমবার লালু মন্ডল রাজাপুর বাজার থেকে বাড়ি ফিরতেছিলেন, তখন জামাল উদ্দিন ও তার সঙ্গীরা লালু মন্ডলকে একটি ঘরে ডেকে নিয়ে চাঁদা দাবী ও মারপিট করে। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে লালু মন্ডলের স্বজনেরা সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে সালিশী বৈঠকে আলোচনাকালে জামাল উদ্দিন ও তার সঙ্গীরা অতর্কিত চেয়ারম্যানের উপর হামলা চালায়, মারপিট করে ও জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। এ ঘটানার সাধে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন তিনি। অন্যথায় এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধ হবে না।
লালু মন্ডল বলেন, ইতোপূর্বে চেয়ারম্যান সহ এলাকাবাসী আমাদের একটি পারিবারিক সমস্যা সমাধান করে দেন। ওই বিষয়ে জামাল উদ্দিন ও তার সঙ্গীরা টাকা দাবী করলে, আমি তা দিতে অস্বীকার করি। তখন আমাকে তারা সোমবার মারপিট করে। সেখান থেকে আমার স্বজনেরা উদ্ধার করে। এ বিষয়ে জামাল উদ্দিনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি, হেতু তার অভিমত উল্লেখ করা গেল না।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইন-চার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে ঘটানার সাধে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা হবে।