
নিজস্ব প্রতিবেদক।। নাটোরের লালপুরে অতিথি না করায় মাইকিং করে ১৪৪ ধারা জারি করা লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আলীকে বহিষ্কার করেছে নাটোর জেলা ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) নাটোর জেলা ছাত্র দলের সহদপ্তর সম্পাদক কে এম কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি মারফত বিষয়টি নিশ্চিত করছেন।
জারি করা ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গত ২৩ আগস্ট তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। তবে নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষা ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃত ব্যক্তির সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন।
এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন নাটোর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. কামরুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মারুফ ইসলাম সৃজন।
উল্লেখ্য, লালপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে প্রায় ছয় দশক ধরে নিয়মিত ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন হয়ে আসছে। প্রতি বছরের ন্যায় টুর্নামেন্টে স্থানীয় কলেজ, হাইস্কুল, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের ছয়টি দল অংশ নেয়। গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) জুমার নামাজের পর টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকেই ছাত্রদল নেতা মো. মারুফ আলী ফাইনাল খেলায় পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম মোলামকে প্রধান অতিথি এবং নিজেকে বিশেষ অতিথি করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে আয়োজকরা দীর্ঘদিনের স্থানীয় ঐতিহ্য বজায় রেখে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ব্যক্তিদের অতিথি না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে মারুফ আলী নিজ উদ্যোগে মাইক ভাড়া করে গ্রামে ‘১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে’ এবং সেখানে কেউ খেলতে পারবেন না প্রচার করেন। এমন ঘোষণার পর ফাইনাল ম্যাচ বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মারুফ আলী বলেন, সংগঠনের প্রতি সদা সর্বদা অনুগত আছি। দলের স্বার্থে দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমি মাথা পেতে মেনে নিয়েছি।
এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবির সুইট বলেন, ঘটনাটি নিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। স্থানীয় একটি ক্রীড়া আয়োজনকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা তৈরি হলে সেটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। ১৪৪ ধারা জারির মতো কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার ব্যক্তিগতভাবে কারও নেই।
নাটোর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমাদের নজরে আসার পর অভিযুক্ত নেতার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। তার বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় সাংগাঠনিক ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সম্পাদনায়: আ.স/প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ ২৫/০৮/২০২৬।