
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নাটোরের লালপুরে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমো আইডি হ্যাক করে প্রতারণার অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া (ভাঙ্গাপাড়া) গ্রামের সাজদার প্রামাণিকের ছেলে কাউসার আলী (২০), মিজানুর রহমান বিশুর ছেলে সোহাগ আলী (২৩) ও টুটুল প্রামাণিকের ছেলে ইমন আলী (১৯)।
লালপুর থানা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মোহরকয়া ভাঙ্গাপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জানা যায়, প্রতারক চক্রটি প্রথমে নারী কণ্ঠে কথা বলে প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতো। পরে কৌশলে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমো আইডির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রবাসীর বন্ধু বা পরিচিতজন সেজে প্রবাসীর স্ত্রী, ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের ফোন করতো।
ফোনে বলা হতো, ‘আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে’। নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে আকামার মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে হবে। কখনো তারা প্রবাসী সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত কিংবা পুলিশের হাতে আটক হয়েছে এমন খবর দিতো। তাকে বাঁচাতে প্রতারকদের দেওয়া বিকাশ একাউন্টে বিভিন্ন পরিমাণে টাকা চাওয়া হয়। এছাড়া ব্যাংক রিসিট জালিয়াতি কিংবা নারী সেজে প্রবাসীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে গোপন ভিডিও ধারণ করতো তারা। পরে সেসব ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত এক মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হ্যাক ও প্রতারণা চক্রের ২০ জনের অধিক সক্রিয় সদস্যকে আটক করছে লালপুর থানা পুলিশ। তবে তারা আইনের ফাঁক গলে দ্রুত জামিনে বের হয়ে পুনরায় একই কাজে জড়িয়ে পড়ছে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল থেকে উপজেলায় ইমো হ্যাকিং শুরু হয়ে বর্তমানে পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।