
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি হ্যাকিং ও অনলাইন প্রতারণার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন নাটোরের লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ। গত সেপ্টেম্বর মাসে সাইবার সুরক্ষা আইনে সাতটি মামলা দায়ের এবং ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি হ্যাকিংয়ে জড়িত ১৯ জনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। রোববার (২৫ অক্টোবর) নাটোর জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক তাঁকে পুরস্কৃত করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি হ্যাক করে প্রতারণা এবং পুলিশের পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের মতো অপরাধে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের প্রতারণায় দিনাজপুর জেলার পুলিশ সুপারসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি ব্যবহার করে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ আইডি খোলা হচ্ছে। পরে এসব আইডি থেকে ফোন করে পুলিশের পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে মানুষের কাছে টাকা চাওয়া হচ্ছে।
পুলিশের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রাজশাহীর বাঘা ও নাটোরের লালপুর থানাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা ঘটছে বা ঘটতে পারে। পুলিশের পরিচয়ে কেউ ফোন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিংবা অন্য কোনো কৌশলে টাকা চাইলে প্রতারিত না হতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই অনলাইন বা অন্য কোনো মাধ্যমে টাকা না দিয়ে দ্রুত নিকটস্থ থানায় অথবা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বিষয়টি জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের প্রতারণার ঘটনায় দিনাজপুর জেলায় ইতোমধ্যে তিনটি মামলা হয়েছে এবং ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে, লালপুর থানায় গত ছয় মাসে সাইবার সুরক্ষা আইনে এ-সংক্রান্ত ৩০টির বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রায় ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। দেশের অন্যান্য থানাতেও এ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অপরিচিত নম্বর থেকে আসা ফোনকল ও সন্দেহজনক আইডি সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে পুলিশের ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি ব্যবহার করা কোনো আইডি দেখেই সেটিকে প্রকৃত পুলিশ কর্মকর্তার আইডি বলে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, প্রতারণার শিকার হওয়ার আগেই সতর্কতা অবলম্বন এবং সন্দেহজনক ফোনকলের তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানালে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সহায়তা পাওয়া যাবে। মাদক, অনলাইন প্রতারণা, অনলাইন জুয়া ও সকল ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত আছে। লালপুরে কোন সন্ত্রাস ও অপরাধীর স্থান হবে না। এ সময় যেকোনো অপরাধমূলক কার্যক্রমের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহবান জানান তিনি।
সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ /উপসম্পাদক/ প্রাপ্তি প্রসঙ্গ