| |

শিরোনাম
শুভ জন্মদিন প্রতিমন্ত্রী ফারজনা শারমীন পুতুল বাউয়েটের বড়াল হলের ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন বড়াইগ্রামে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত জাতীয় যুব পুরস্কার পেলেন এ এম রায়হান লালপুরে পাস করলেন প্রতারণার শিকার সেই দুই শিক্ষার্থী, ৪ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ শিশু বাচ্চাদের সাথে নিয়ে রাস্তার উন্নয়ন কাজ উদ্বোধন প্রতিমন্ত্রী পুতুলের শেরে বাংলা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড পেলেন মোকছেদুল মোমিন সরকারের ভালো কাজ বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন সেক্টরে বসে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা ষড়যন্ত্র করছে- প্রতিমন্ত্রী পুতুল বিলমাড়ীয়া মডেল একাডেমীর যুগ পূর্তি ও কৃতী সংবর্ধনা সাংবাদিক এস এম রাজার জন্মদিনে কবিতা পাঠ ও সুরের মেলা

এআই ট্রেনিং প্রোগ্রাম: শিক্ষায় প্রযুক্তির নবদিগন্তে পদার্পণ

নাটোর প্রতিনিধি :
বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক শিক্ষার প্রেক্ষাপটে নাটোরের লালপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে সময়োপযোগী ও দৃষ্টিভঙ্গি-বদলানো ‘ফান্ডামেন্টাল আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ট্রেনিং প্রোগ্রাম’।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫) বিকেলে ছায়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ মিলনায়নে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এক সাথে চলি’র এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। এতে এআই-ভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে আগ্রহী ৪৭ জন শিক্ষক, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছায়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. সিমানুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাজার শরীফ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট উইমেন্স কলেজের অধ্যক্ষ ও বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এক সাথে চলি’র (এসাচ) সভাপতি ইমাম হাসান মুক্তি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইমাম হাসান মুক্তি বলেন, আজকের এই প্রশিক্ষণ শুধু শিক্ষদের জন্য নয়, বরং সকলের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা যেকোনো শিক্ষার মান ও গতি উন্নত করতে পারি। তাদের কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করতে পারি। যার মাধ্যমে শিক্ষায় প্রযুক্তির নবদিগন্তে পদার্পণ করেছে।
প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ম. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি অংশগ্রহণকারীদের সামনে বাস্তবভিত্তিক ও সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মৌলিক ধারণা, শিক্ষা ব্যবস্থায় এর ব্যবহারিক ভূমিকা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য এআই টুলসের কার্যকর ব্যবহার এবং অ্যাডাপটিভ লার্নিং-এর গুরুত্ব।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. সিমানুর রহমান বলেন, এই প্রশিক্ষণ প্রমাণ করে, প্রযুক্তি শুধু একটি মাধ্যম নয়-এটি একটি বিপ্লব। আমরা চাই, আমাদের শিক্ষার্থীরা হোক প্রযুক্তি-দক্ষ এবং শিক্ষকরা হোক সেই পরিবর্তনের পথপ্রদর্শক।
অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র প্রদান করা হয়। শিক্ষক ও সাংবাদিকদের অনেকে জানান, এআই সম্পর্কে তাদের ভুল ধারণা দূর হয়েছে। এখন তারা এআই-ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন।
এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি স্থানীয় শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। ভবিষ্যতে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।


বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি, মো. আশরাফুল ইসলাম(এমবিএ মার্কেটিং) নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে ও নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে অনন্য অবদান রাখছেন মিনতি রায়। বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও নারী-স্বাস্থ্য বিষয়ে উঠান বৈঠক ও সেমিনারের মাধ্যমে দীর্ঘ্য ১২/১৩ বছর যাবত সচেতনামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন নিম্নবিত্ত পরিবারের গৃহিনী মিনতি রায়। তিনি উপজেলার বনপাড়া মৃধাপাড়া গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী অখিল রায়ের স্ত্রী। তার ১২ বছর ৭ মাস বয়সে দরিদ্র পরিবারে বিয়ে হয়। তিনি ২ সন্তানের জননী। বাল্যকালে বিয়ে হওয়ায় যেসব অসুবিধার মুখোমুখি হয়েছেন, সেগুলো নিয়ে সচেতনামূলক উঠান বৈঠক শুরু করেন। উঠান বৈঠকে বাল্য বিয়ের কুফল, বাল্য বিয়ে বন্ধের প্রয়োজনীয়তা, বাল্য বিয়ে বন্ধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সেমিনার করেন পাশের গ্রাম গুনাইহাটি, ছাতিয়ানগাছা গ্রামে। নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে অনন্য অবদান রাখছেন। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের অধিকার রক্ষায় তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তিনি বিভিন্ন সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও উঠান বৈঠক পরিচালনা করেন। এছাড়া, নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং পিরিয়ডকালীন স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে তিনি চিকিৎসকদের সহায়তায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্পের আয়োজন করে আসছেন। তাঁর এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ অঞ্চলের শত শত কিশোরী অকাল বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে এবং নিজেদের স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কে জানতে পারছে। সংক্ষেপে বলা যায়, অনিকা রায়ের এই নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা সমাজে বাল্যবিবাহের হার কমাতে এবং নারী স্বাস্থ্যের উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তিনি সকল ধর্মের মানুষের কাছে বসেন ও তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনেন। ধীরে, ধীরে তাদের একত্রিত করে তিনি “আমরা স্বাধীন মহিলা সমবায় সমিতি লিঃ ” নামে একটি সংগঠন তৈরী করলেন এবং তাদের নিয়ে সমাজ থেকে কিভাবে বাল্য বিবাহ দুর করা যায় সে বিষয়ে সেমিনার করেন। এক জন কন্যা শিশু অল্প বয়সে বিয়ে দিলে তার শরীর, মন ভেঙ্গে পড়ে, পিতা-মাতা ছেড়ে নতুন বাড়িতে গিয়ে সবার সাথে খাপখাইয়ে চলতে ব্যর্থ হয়, সংসারে নেমে আসে অশান্তি। ফলে পরিবারে সৃষ্টি হয় বিভাজন, কখনো বিচ্ছেদ। বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই গর্ভে আসে বাচ্চা। অপ্রাপ্ত বয়সে পড়তে হয় বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুকিতে। এ বিষয়গুলো তিনি তুলে ধরেন সেমিনারে। তার পরামর্শে অনেক বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়েছে। নারী রোগাক্রান্ত রোগীদের নিয়ে সেচ্ছায় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। এসব সেবা প্রদান করায় তিনি এলাকার মহিলাদের হয়ে উঠেছেন মমতাময়ী মা। তিনি সফল উদ্যোক্তা। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে দক্ষ উদ্যোক্তা হয়ে উঠবেন ও সরকারী কার্যক্রমে সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারবেন।

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.