সোমবার | ১ ডিসেম্বর, ২০২৫ | ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

ঈশ্বরদীতে বিএনপি–জামায়াতের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পাবনার ঈশ্বরদীতে গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করে পৃথক দুটি মামলা করেছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুন নুর এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে শনিবার দুপুরে মামলাগুলো নথিভুক্ত হয়।

ওসি জানান, সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধার ছেলে বাঁধন হাসান আলিম বাদী হয়ে ৩২ জন জামায়াত নেতার নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। পাশাপাশি ১৫০ থেকে ২০০ জন অজ্ঞাতনামাকেও আসামি করা হয়েছে। মামলায় পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা–৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

অপরদিকে ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম একই থানায় বিএনপির ৩৮ নেতা–কর্মীর নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। এখানে প্রধান আসামি করা হয়েছে সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধাকে। পাশাপাশি আরও ১০০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এদের বেশির ভাগই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী ও আত্মীয়।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া অস্ত্রধারী যুবক সম্পর্কে তিনি বলেন, “তাকে সন্ত্রাসী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর জানা যাবে, সে কোন পক্ষের।”

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চর গড়গড়ি এলাকায় জামায়াত প্রার্থীর প্রচারণাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুই দলের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে দুই দলের বহু নেতা–কর্মী এলাকা ছেড়ে গেছেন।

শনিবার বিকেলে পাবনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, “জামায়াত কর্মীরা গ্রামে নারী ভোটারদের বিভ্রান্ত করায় জনতা প্রতিবাদ জানায়। পরে জামায়াত নেতাদের হামলায় বিএনপির অন্তত ১১ জন আহত হয়।” তিনি দাবি করেন, সংঘর্ষের সময় তুষার নামের এক জামায়াতকর্মী আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেন, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে শনিবার ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, তাদের ৫০ জনের বেশি সদস্য আহত হন এবং শতাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও পোড়ানো হয়।

অস্ত্রধারী যুবকের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে জামায়াত প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডল বলেন, “তুষারকে আমি চিনি না। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।” তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “বিএনপির সমর্থকেরাই প্রথম হামলা চালিয়েছে এবং এখন আমাদের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে।”

 

সম্পাদনা: রাশিদুল ইসলাম রাশেদ / উপসম্পাদক/ প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/৩০-৪

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৩)
Developed by- .::SHUMANBD::.