
নিজস্ব প্রতিবেদক :
দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের অপেক্ষা ও আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে কাঙ্ক্ষিত বিসিএস কৃষি ক্যাডারে যোগদান করেছেন নাটোর জেলা শিক্ষা কার্যালয়ে কর্মরত শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আনসারী। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের আলোকে বৃহস্পতিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষি ক্যাডারে যোগ দেন। একই রায়ে তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন ক্যাডারের আরও ৬৬৭ জন প্রার্থী একযোগে যোগদানের সুযোগ পান। আব্দুল্লাহ আনসারী রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান মণ্ডল ছেলে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি, ২০২৫) বিকেলে আব্দুল্লাহ আনসারী জানান, তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে স্নাতক সম্পন্ন করে ওই বছর অনুষ্ঠিত ২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় কৃষি ক্যাডারে অংশগ্রহণ করেন। লিখিত, মৌখিক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ নিয়োগের সব ধাপেই তিনি সফলভাবে উত্তীর্ণ হন। তবে গেজেট প্রকাশের আগেই তৎকালীন বিএনপি–জামায়াত জোট সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
পরবর্তীতে ২০০৭ সালে ড. ফখরুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নতুন করে মৌখিক পরীক্ষার আয়োজন করে। ওই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্বে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগ বাতিল করা হয়। সে সময় আব্দুল্লাহ আনসারী নাটোর জেলা শিক্ষা অফিসে গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন।
এরপর ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক রায়ে তাঁদের নিয়োগ পুনরায় বাতিল হয়। সে সময় আইনজীবীরা রিভিউ আবেদনের পরামর্শ দিলেও তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতায় চাকরিপ্রার্থীরা রিভিউ আবেদনে আগ্রহী হননি বলে জানান তিনি।
পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৬৬৭ জন প্রার্থী একযোগে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদন করেন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শেষে আদালত তাঁদের সবাইকে সংশ্লিষ্ট ক্যাডারে যোগদান করানোর নির্দেশ দেন। এ মামলায় প্রার্থীদের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন সিনিয়র আইনজীবী শিশির মুনির।
দীর্ঘ ২০ বছর পর কাঙ্ক্ষিত কৃষি ক্যাডারে যোগ দিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আব্দুল্লাহ আনসারী। তিনি বলেন, “আমি বিসিএস ক্যাডার হতে না পারার কষ্ট নিয়েই আমার বাবা ২০১৭ সালে মারা যান। তিনি বেঁচে থাকলে আজ সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেতেন।”
আব্দুল্লাহ আনসারীর এই সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন নাটোর জেলা শিক্ষা অফিসার মো. রুস্তম আলী হেলালীসহ জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর একজন কর্মকর্তার ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়া শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং প্রশাসনিক ন্যায়বিচারেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ/ উপসম্পাদক/ প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/০৬-০২