
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মরহুম ফজলুর রহমান পটলের মন্ত্রীত্বের ২৫ বছর পর আবারও নাটোরের লালপুরে বিজয়ের বিউগল বাজালেন তারই কন্যা ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩ টায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার নিজ বাড়িতে পৌছালে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে এ বিউগল বাজানো হয়।
এর আগে দুপুর আড়াইটায় লালপুর উপজেলা ও গোপালপুর পৌর বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে প্রতিমন্ত্রীর বাড়ি সংলগ্ন গৌরীপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে তাকে এক বিশাল গণসংবর্ধনা দেয় সর্বস্তরের জনসাধারণ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় তাকে এ সংবর্ধনা দেয়া হয়। এ সময় তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনাদের ভালোবাসা ও দোয়াতে আজ আমি সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হতে পেরেছি। ২০ বছর পর আবার লালপুরের এই রাস্তায় পতাকাবাহী গাড়ি এসেছে। ওয়াদা অনুযায়ী লালপুর – বাগাতিপাড়ার প্রতিটি ঘরের জীবনমান উন্নয়ন করা আমার ব্রত। লালপুর – বাগাতিপাড়ার মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে লালপুরে সেই ফ্যামিলি কার্ডের যাত্রা শুরু হয়েছে। আসন্ন ঈদের আগেই হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ নারী সদস্যের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। প্রতি মাসে তারা ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন। এ সময় তিনি দুর্নীতি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও দলমতের ঊর্ধে উঠে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের কাজ করার নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষকদের কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে। ইতোমধ্যে কৃষকের প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার ওপরে কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে সরকার। অনতিবিলম্বে কৃষি কার্ড বিতরণ করা হবে। এছাড়া ঈদের আগেই ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও ধর্মীয় গুরুদের সরকারি ভাতা পৌঁছে দিতে সরকার সচেষ্ট আছেন বলে জানান তিনি। নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করেছে। এ বিজয় বাংলাদেশের সকল মানুষের বিজয়। এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশে যত উন্নয়ন কর্মকান্ড হবে তার প্রতিটির সূচনা লালপুর – বাগাতিপাড়ার মাটিতে হবে ইনশাআল্লাহ। আমার ব্রত কেবল এবং কেবল মাত্র আপনাদের উন্নয়ন করা ও বিপদে-আপদে পাশে থাকা। এ সময় লালপুর – বাগাতিপাড়ার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দল মতের ঊর্ধ্বে উঠে সকল অনিয়ম, অন্যায়, অপরাধ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং চাঁদাবাজদের দমনে সর্বোচ্চ ব্যবস্থার গ্রহণের আহবান জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলের সহযোগিতা চান তিনি। অন্যায়কারীর কোন দল নেই জানিয়ে পুতুল বলেন, কোনভাবেই লালপুর – বাগাতিপাড়ার শান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে দেয়া হবে না। একটি উন্নত লালপুর বাগাতিপাড়া গড়তে করতে আমরা বদ্ধপরিকর। এজন্য আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। আজিমপুর রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেন থামানোর ব্যাপারে কথা হয়েছে। ইনশাল্লাহ, ঈদের আগেই এখানে ট্রেন থামবে।
এ সময় লালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু, গোপালপুর পৌর বিএনপি’র সাবেক আহবায়ক নজরুল ইসলাম মোলাম, উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু, হামিদুর রহমান বাবু, বাগাতিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন, লালপুর উপজেলা যুব দলের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, লালপুর উইনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আশরাফুল আলম লুলু, সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও গৌরীপুর স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ রনজু, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবির সুইট, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান, লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ, লালপুর থানার ওসি মজিবর রহমান সহ অসংখ্য দলীয় নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে তিনি সকাল ১১ টায় নাটোর সার্কিট হাউজে জেলার কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাথে মত বিনিময় করেন। পরে দুপুর ১টায় নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে তিনি যাত্রা করেন এবং আড়াইটায় গৌরীপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে গণসংবর্ধনায় যোগ দেন।
উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুলের বাবা মরহুম ফজলুর রহমান পটল নাটোর-১ (লালপুর – বাগাতিপাড়া) আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে টানা চারবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে তিনি বিএনপি সরকারের যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী, ১৯৯৩ সালে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও ২০০১ সালে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হবার গৌরব অর্জন করেন। পরে ২০০৮ সালে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হলে দীর্ঘ ১৮ বছর পর ফারজানা শারমীন পুতুল আসনটি পুনরুদ্ধার করেন এবং আসনটির সর্বকনিষ্ঠ এমপি ও প্রতিমন্ত্রী হয়ে অনন্য ইতিহাস গড়েন। বাবার পর মেয়ের এমন গগনচুম্বী সফলতায় আনন্দে উদ্বেলিত লালপুর বাগাতিপাড়ার সর্বস্তরের মানুষ।
সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ /উপসম্পাদক/ প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/২৮/০১