
বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি
২০২২ সালে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যায়ে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোয়াড়ী ইউনিয়নের কামারদহ গ্রাম থেকে কুমরুল হয়ে খোর্দ্দকাচুটিয়া পর্যন্ত চার কিলোমিটার মির্জা মাহমুদ খাল খনন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। এই খালটি পুনঃখনন করার উদ্যোগে নিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। সোমবার বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় সংসদের হুইপ এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এর উদ্বোধন করেন। খননকৃত খাল পুনরায় খননের খবরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে খাল পারের মানুষের।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাটোর ৪ (লালপুর-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ, নাটোর ৩ (সিংড়া) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম আনু, জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখার খায়ের, জেলা বিএনপির আহবায়ক রহিম নেওয়াজ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাত করিম প্রমূখ।
বিএডিসি সূত্রে জানা যায়, বড়াইগ্রাম উপজেলার জোয়াড়ী ইউনিয়নের কামারদহ গ্রামে নন্দকুজা নদী থেকে কুমরুল হয়ে খোর্দ্দকাচুটিয়া পর্যন্ত দীর্ঘ একটি খাল প্রবাহমান। যার স্থানীয় নাম মির্জা মাহমুদ খাল। এই খাল দিয়ে বর্ষাকালে অন্তত ১০ গ্রাম ও বিলের প্রানি নিষ্কাসন হয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় প্রায় ভরাট হয়ে যায়। ২০২২ সালে বিএডিসির উদ্যোগে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মাথায় ৮/১০ মিটার তলানিতে ৩ থেকে ৪ মিটার এবং আড়াই থেকে ৩ মিটার গভীরতা নিয়ে খালটি পুনঃখনন কাজ করে।
সরেজমি পরিদর্শন দেখা যায়, সাড়ে ৪ কিলোমিটার খালে অন্তত ৫টি ছোট ব্রীজ দিয়ে মানুষের পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরমধ্যে খালের মাথায় কামারদহ এলাকায় একটি ব্রীজ খননকৃত খালের চেয়ে অন্তত ৪/৫ ফুট উচ্চতার তলানি এবং তার পাসদিয়ে বয়ে যাওয়া গ্যাসের পাইব লাইন রয়েছে। ফলে নদী থেকে খালে প্রানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। তাই ব্রীজের তলা অপসারন না করে শুধু খালের গভীরতা বৃদ্ধি করে কোন সুফল আসবে না। এছাড়া বিএডিসি কর্তৃক খননকৃত খালটি এখনো ১০ ফুট গভীর রয়েছে একই সাথে দুই ধারে বাঁধা পাড়ও ভাঙেনি।
এসময় কামারদহ গ্রামের আতাউর রহমান বলেন, খাল খনেন কাজ তো আগেই করা হয়েছে। এখন ব্রীজের তলা ভেঙে দিলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে। এছাড়া বিএডিসি কর্তৃক খননকৃত খালটি এখনো তেমন কোন ভরাট হয়নি।
কুমরুল উত্তরপাড়া গ্রামের আবু সাঈদ বলেন, খনন করা খাল পুনরায় খনন করে সরকারের টাকা অপচায় ছাড়া আর কিছু না। তাই তো বিএডিসির খননের সাইবোর্ড ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। এখন সেখানে হয়তো নতুন সাইন বোর্ড লাগাবে । খননের টাা হালাল করতে।
একই গ্রামের বৃদ্ধ আলফাজ বলেন, খাল তো আমাদের মাল সম্পত্তি দিয়ে কেটেছে। এবার যদি কাটে তাহলে যেন খালের জায়গা দিয়েই কাটে। আর আমাদের জমি গুলো ভরাট করে সমতল জমি করে দেয়। তাহলে গরীব মানুষের কিছুটা উপকার হবে।
খোর্দ্দকাচুটিয়া গ্রামের আব্দুল জলিল বলেন, নন্দকুজা নদীতেইতো পানি নাই। আবার খালের মুখে ব্রীজ দিয়ে বন্ধ। এদিকে খনন করে লাভ নাই। বিলের পানি নামার জন্য যা আছে সেটাই যথেষ্ট।
বিএডিসি নাটোরের নির্বাহী প্রকৌশলী .সাজ্জাদ হোসাইনের বলেন, আমরা খালটি ২০২২সালে খনন করে ছিলাম। শুনতেছি খালটি নাকি আবার খনন করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড নাটোরের নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাত করিম বলেন, সার্ভেয়ার দাড়া পর্যবেক্ষণ করে নকশা তৈরী দপ্তরে পাঠাইছি তারা বলছে কাটা যাবে। সেই আলোকে কাটা হচ্ছে। কাটলে তো খালে পানি থাকবে। উপকার তো হবেই।
জেলা প্রশাসক আসমা শাহিন মোবাইল ফোন বা মেসেজের দিয়ে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।