শনিবার | ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ | ১২ বৈশাখ, ১৪৩৩

ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত লালপুর, বিপাকে পরীক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নাটোরের লালপুরে গ্রীষ্মের খরতাপের মধ্যেই ১৫ – ১৬ ঘন্টার ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিপাকে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থী, সাধারণ শিক্ষার্থী, শিশু ও বয়স্ক সহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে উপজেলায় সর্বোচ্চ ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, লালপুরে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বাতাসের আদ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। এমন তাপপ্রবাহ আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
সরজমিনে জানা যায়, প্রচন্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। বড়বাড়িয়া গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী তানিয়া খাতুন বলেন, দিন ও রাতের অধিকাংশ সময়ে বিদ্যুৎ থাকছেনা। এতে পড়াশোনা ও ঘুম কোনটাই হচ্ছে না। ফলে পরীক্ষার পূর্ণ প্রস্তুতিতে চরম ব্যাঘাত ঘটছে। অন্যান্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবস্থাও একই রকম বলে জানিয়েছেন রক্তিম আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী শীতুল আক্তার মাহি। এছাড়া লোডশেডিংয়ে গাছের নিচে খোলা মাঠে ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান রাসেল। এদিকে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, খামারি ও কৃষকরাও  ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অতিরিক্ত গরমে গত সাত দিনে প্রায় একশ মুরগি মারা গেছে জানিয়ে উধনপাড়া গ্রামের পোল্ট্রি খামারি মুক্তার হোসেন বলেন, দিনে ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে খামারের মুরগি টিকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। এতে লোকসানে পড়বেন তিনি।
ঢুষপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক নুরুজ্জামান জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাটারি চালিত ভ্যানে চার্জ দিতে পারছেন না তিনি। ফলে ভাড়া মারতে না পারায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
বিদ্যুতের এমন ভয়াবহ অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। রহিমপুর গ্রামের মোসা. টুলু খাতুন বলেন, রাতে এক ঘন্টা পর পর ২ ঘন্টার লোডশেডিং হয়। এতে কেউ ঘুমাতে পারছিনা। শিশুরা ইতোমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ দিনে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অতিরিক্ত গরমে শিশুরা ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া এবং বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছেন। এছাড়া হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীরা ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুরুজ্জামান শামীম। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুনজুর রহমান বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে রোগীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি চিকিৎসা সেবা দিতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে। এ অবস্থার দ্রুত উন্নতি হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি -২, লালপুর জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাক (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম বলেন, লালপুর উপজেলায় প্রতিদিন গড়ে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে অর্ধেকেরও কম। ফলে উপজেলার নয়টি ফিডারে পর্যায়ক্রমে দেড় ঘন্টার লোডশেডিংয়ের পর এক ঘন্টা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। কখনো কখনো সেটাও সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে এটি একটি জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। কবে নাগাদ এ সমস্যার সমাধান হবে সেটা এখন বলা সম্ভব নয়। তবে আশা করি দ্রুত এ অবস্থার উন্নতি হবে।
এদিকে উপজেলায় লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে নাটোর -১ (লালপুরবাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও  সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুলের সুপারিশে গতকাল (২৪ এপ্রিল ২০২৬) থেকে অতিরিক্ত ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাবার কথা জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিজিএম রেজাউল করিম জানান, অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে সেটা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় আরও বিদ্যুৎ পেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রতিমন্ত্রীর প্রতি দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রাপাশাপাশি তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করায় তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তারা

সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ /উপসম্পাদক/ প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/২৫-০১

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.