
নিজস্ব প্রতিবেদক :
নাটোরের লালপুরে ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমো আইডি হ্যাক করে প্রবাসীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২’রা মে ২০২৬) সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন উপজেলার পানসিপাড়া গ্রামের রফিজ মন্ডলের ছেলে বাসের আলী (১৭), আশরাফ আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ (১৯), শাহিনুর রহমানের ছেলে শাকিল (১৯), মো. বাচ্চু মন্ডলের ছেলে আব্দুল্লাহ আল বায়েজিদ (১৮) ও নওপাড়া গ্রামের সুলতান আলীর ছেলে লালন আলী (২১)।
থানা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশের একটি বিশেষ দল উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের পানসিপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় পানসিপাড়া গ্রামের মো. রফিজ মন্ডলের বাড়ির একটি শয়নকক্ষ থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়। তারা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে স্থানীয় ও প্রবাসীদের ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমো আইডিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করতেন। পরে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে আইডিগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করতেন।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আটক পাঁচজনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৬ এর ১৭(১)(ক)(খ)/২৭ ধারায় মামলা দায়ের করে শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে লালপুরের বিলমাড়িয়া ইউনিয়নে ইমো হ্যাকিং চক্রের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে তা দুড়দুড়িয়া, লালপুর সদর, আড়বাব, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন ও পাশ্ববর্তী বাঘা উপজেলার কিছু অংশে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, উঠতি বয়সী কিশোর ও যুবকরা এই অবৈধ হ্যাকিং চক্রের সঙ্গে বেশি জড়িয়ে পড়ছেন। তাদের আয়ের দৃশ্যমান কোন উৎস না থাকলেও ইতোমধ্যে তারা কোটিপতি বনে গেছেন। এছাড়া তাদের অধিকাংশই মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ /উপসম্পাদক /প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/০৩-০১