শুক্রবার | ১ মে, ২০২৬ | ১৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

এক দশকের প্রস্তুতির পর রূপপুরে শুরু হয়েছে ইউরেনিয়াম লোডিং

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দীর্ঘ প্রায় এক দশকের প্রস্তুতি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও জটিল প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনের পর অবশেষে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে পা রাখল বাংলাদেশ। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র–এর প্রথম ইউনিটে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করার পর প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২৮ এপ্রিল বিকেলে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে বহুল প্রতীক্ষিত এ কার্যক্রম শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম–এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে সকালে ঢাকায় পৌঁছান। সরকারি সূত্র জানায়, ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি হেলিকপ্টারে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় যান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ছাড়াও রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশনা ও কারিগরি শর্ত পূরণে জটিলতা থাকায় এর আগে কয়েক দফা সময় নির্ধারণ করেও জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ায় এবার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যে এ কাজে অংশ নেওয়ার জন্য ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ অপারেটিং লাইসেন্স পেয়েছেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন জানান, পুরো জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে আগামী জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। আর বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন শুরু হলে এ ইউনিট থেকেই মিলবে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রাশিয়ার আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় নির্মিত কেন্দ্রটিতে ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর প্রযুক্তি। প্রকল্পের দুটি ইউনিট পুরোপুরি চালু হলে মোট দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, যা দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী প্রথম তিন বছরের পারমাণবিক জ্বালানির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে বছরে জ্বালানি খরচ হবে আনুমানিক এক হাজার কোটি টাকা। একই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বছরে প্রায় এক কোটি টন কয়লা অথবা ১৯ কোটি গ্যালন জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হতো। এছাড়া কয়লা বা তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গড় আয়ুষ্কাল যেখানে ২৫ থেকে ৩০ বছর, সেখানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করা সম্ভব প্রায় ৬০ বছর পর্যন্ত। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এর মেয়াদ আরও প্রায় ৩০ বছর বাড়ানো যেতে পারে।

সম্পাদনা : রাশিদুল ইসলাম রাশেদ/ উপসম্পাদক/ প্রাপ্তি প্রসঙ্গ/০১-০২

স্বত্ব: নিবন্ধনকৃত @ প্রাপ্তিপ্রসঙ্গ.কম (২০১৬-২০২৬)
Developed by- .::SHUMANBD::.