
নিজস্ব প্রতিবেদক : শিক্ষার কোনো বয়স নেই এই চিরন্তন সত্যকে নতুন করে প্রমাণ করলেন নাটোরের লালপুর উপজেলার ফুলঝুড়ি বেগম। ছেলে যখন এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন পাশে বসে একই স্বপ্ন বুনেছেন তার মা ফুলঝুড়ি। অবশেষে সেই স্বপ্নই বাস্তবোয়নের লক্ষ্যে মা ও ছেলে একসাথে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন মধুবাড়ি দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
জানাযায় উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফুলঝুড়ি বেগম এবং তার ছেলে মনিরুল ইসলাম (১৫) চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন। তারা দুজনই মোহরকয়া নতুনপাড়া মাধ্যমিক কারিগরি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার ট্রেডের শিক্ষার্থী।
জীবনের নানা প্রতিকুলতায় সপ্তম শ্রেণিতেই থেমে গিয়েছিল ফুলঝুড়ি বেগমের পড়াশোনা। কিন্তু থেমে থাকেনি পড়াশুনা প্রতি তার প্রবল ইচ্ছাশক্তি। ছেলের বই হাতে নিয়েই আবারও শুরু করেন পড়াশুনা।
ফুলঝুড়ি বেগম বলেন, বাবার সংসারে নানা প্রতিকূলতার কারণে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশুনা করা অবস্থায় ১৯৯৭সালে নওপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের সাথে বিয়ে হয় তার। সংসার জীবনের ২৯বছর পেরিয়ে গেলেও পড়াশুনার প্রতি প্রবল ইচ্ছাশক্তি থেকেই আবারও নিজের সন্তানরে সাথে মোহরকয়া নতুনপাড়া মাধ্যমিক কারিগরি ও ভোকেশনাল ইন্সটিটিউটে ভর্তি হই। ছেলের পাশে বসে পড়তে পড়তেই সাহস পেয়েছি। এখন একসাথে পরীক্ষা দিতে পারছি এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ। পড়াশুনার করার জন্য বয়স কোন প্রতিবন্ধকতা নয়, তা নিজের জীবন থেকে বুঝতে পাড়ছি।
অন্যদিকে ছেলে মনিরুল ইসলাম মায়ের এই সাহসিকতাকে নিজের শক্তি হিসেবে দেখছেন। সে বলে, মা শুধু আমার মা নন, তিনি আমার সহপাঠীও। আমরা একসাথে পড়েছি, একসাথে পরীক্ষা দিচ্ছি এটা আমার জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়।
ফুলঝুড়ি বেগম এর স্বামী নজরুল ইসলাম বলেন ভ্যান চালানোর পাশাপাশি অন্যের থেকে সদাভাগি নিয়ে বাড়িতে গরু ও ছাগল পালন করি। এভাবেই আয় করে পরিবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বড় মেয়ে রোজিনা আক্তার কে নাসিং পড়িয়েছি। বর্তমানে সে ঢাকার একটি ক্লিনিকে চাকুরী করছেন। এবছর স্ত্রী ফুলঝুড়ি ও ছেলে মনিরুল ইসলাম এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। আপনারা আমার স্ত্রী ও ছেলের জন্য দোয়া করবেন, তারা যেনো সফলতার সাথে এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করতে পারে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহানুর ইসলাম জানান, শিক্ষা গ্রহণে বয়স নয়, ইচ্ছাশক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি তা প্রমাণ করেছেন ফুলঝুড়ি বেগম। মা-ছেলের এমন উদ্যোগ অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলহাস হোসেন সভাপতি বলেন এটি শুধু লালপুর নয়, পুরো দেশের জন্য নারী নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বয়স কখনো শিক্ষার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে না, যে কোন বয়সে শিক্ষা অর্জন করা সম্ভব। এঘটনা বয়স্ক শিক্ষাকে সাহিত্য করবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার পড়াশোনা ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি আরো বলেন আমি আশাকরি ফুলঝুড়ি বেগম আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
সম্পাদনায়: আ.স / প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক ।